নওগাঁর বদলগাছীতে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে লীজের জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছীতে দীর্ঘদিন ধরে লীজকৃত চাষাবাদ করা কৃষি জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ঘটনাটি উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের পিতাম্বপুর মৌজায় ঘটেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২২ জুন ২০২৬ সোমবার দুপুরে বালুভরা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বিদ্যুৎ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাক্টর নিয়ে প্রায় ১৫ বিঘা ৭ শতক লীজকৃত জমিতে প্রবেশ করে হালচাষ শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তারা জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম চালান।

খবর পেয়ে বর্তমান লীজগ্রহীতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যান।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা প্রায় ১২ বছর ধরে ৮ জন মিলে সরকারি ভূমি অফিস থেকে বৈধভাবে লীজ নিয়ে ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন।

তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে।

ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান রাজা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম অনুযায়ী জমি ভোগদখল করছেন।

হঠাৎ করে একটি পক্ষ দখলের চেষ্টা করছে, যা অন্যায় এবং তারা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

বদলগাছীতে লীজকৃত জমি দখল

বদলগাছীতে লীজকৃত জমি দখল , প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি

অন্যদিকে বিধবা নারী রিক্তা বেওয়া অভিযোগ করে বলেন, এই জমিটিই তার জীবিকার একমাত্র সম্বল।

স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি লীজ নিয়ে জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এখন জমি দখল হলে তিনি চরম সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বালুভরা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, পূর্বের লীজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

নতুন করে লীজের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তাই জমিটি বর্তমানে বৈধভাবে তাদের দখলে নেই বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি সভাপতি আল ইমরান হোসেন বলেন, উভয় পক্ষই নতুন লীজের জন্য আবেদন করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

অন্যদিকে বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দীন জানান, লীজের মেয়াদ শেষ হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের লীজ বহাল থাকে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান না হলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।