নওগাঁর ৯ হোটেলে অভিযান, প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

নওগাঁ শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে মধ্যরাতের বিশেষ অভিযানে প্রতারক চক্র গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের টার্গেট করে রাসায়নিক স্প্রে বা কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহার করে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয় ।

ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন সদস্য এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম–এর নির্দেশনায় জেলা পুলিশের সমন্বিত বিশেষ অভিযানে নওগাঁ শহরের ৯টি আবাসিক হোটেলে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), সদর মডেল থানা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।

গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর এলাকায় একই দিনে সংঘটিত দুটি পৃথক প্রতারণার ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়।

প্রথম ঘটনায় শহরের চুরিপট্টি এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে কৌশলে অচেতন করে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারকরা।

পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নওগাঁ প্রতারক চক্র গ্রেফতার

বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের টার্গেট করে প্রতারণা, নওগাঁ প্রতারক চক্র গ্রেফতার

একই দিনে দ্বিতীয় ঘটনায় ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজ এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে স্বর্ণের বার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পরে রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে তাদের কাছ থেকে ছয় আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের দুল হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

দুটি ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানা-য় পৃথক মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২৭ জুন গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।অভিযানে গাইবান্ধার তিনজন এবং দিনাজপুরের একজনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে নওগাঁ স্বর্ণপট্টির একটি জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠানের এক ম্যানেজারকেও আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দ্বিতীয় প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গলানো অবস্থায় চার আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারক চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য এখনও পলাতক রয়েছে।

তাদের গ্রেফতার এবং প্রথম ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে লুট হওয়া বাকি স্বর্ণালংকার ও অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।