নিয়ামতপুরে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

নওগাঁর নিয়ামতপুরে হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রসূতি

নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসার নামে ওষুধ সেবনের পর এক অন্তঃসত্ত্বা প্রসূতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়ামতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের নাজমুলের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন প্রায় দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করলে মঙ্গলবার তিনি উপজেলার টিএলবি বাজারে অবস্থিত মেসার্স জেসমিন ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী আলাউদ্দিনের কাছে যান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আলাউদ্দিন নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

পরিবারের দাবি, আর্থিক সংকটের কারণে সন্তান না রাখার ইচ্ছার কথা জানালে অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা না বলে নিজ হাতে তিনটি ওষুধ খাইয়ে দেন।

পাশাপাশি পরদিন সকালে খাওয়ার জন্য আরও চারটি ওষুধ দেন। ওষুধ সেবনের কিছু সময়ের মধ্যেই মর্জিনা খাতুনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

নিয়ামতপুরে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ,তদন্তের আশ্বাস পুলিশের

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতির গুরুতর শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রসূতির ভাই মো. সাগর আলী বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আলাউদ্দিন।

তিনি বলেন, প্রসূতি তার কাছে এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি কোনো চিকিৎসা দেননি। বরং তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

SEE MORE>>>