সমিতির টাকা আত্মসাৎ

নওগাঁয় সমিতির ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: টাকা ফেরত না পেয়ে গ্রাহকদের মানববন্ধন

নওগাঁর পত্নীতলায় সমিতির টাকা আত্মসাৎকরার অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা মানববন্ধন করেছেন। ‘স্বপ্নভূমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এ জমা রাখা টাকা দীর্ঘদিনেও ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, দুই শতাধিক গ্রাহকের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা সমিতির কর্মকর্তাদের কাছে আটকে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের জন্য যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার নতুনহাট চার রাস্তার মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকেরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে তাঁদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তোলেন তাঁরা।

পত্নীতলায় সমিতির প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকদের আন্দোলন

সমিতির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ গ্রাহকদের

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে সমিতিতে জমা রাখা আমানতের বিপরীতে নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গ্রাহকেরা তাঁদের জমা করা টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। প্রায় দুই বছর ধরে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক গ্রাহক তাঁদের আমানত ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আবু বক্কর সিদ্দিক, আসাফউদ্দৌলা চৌধুরী টগর, রোকসানা পারভীন লাকি, নূর ইসলাম ও হাবিবুর রহমানসহ ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। তাঁরা বলেন, ২০২০ সালে নজিপুর পৌরসভার নতুনহাট এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ‘স্বপ্নভূমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা করেন। একটি বাড়িতে কার্যালয় স্থাপন করে সেখানে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করা শুরু করে সমিতিটি। শুরুর দিকে আমানতের বিপরীতে গ্রাহকদের লভ্যাংশ দেওয়া হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে জমা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য গ্রাহকেরা সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়টি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে সমিতির কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এরপর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করেও টাকা ফেরত না পাওয়ার দাবি করেন গ্রাহকেরা।

মানববন্ধনে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তিনি ২০২০ সালে সমিতিতে ১৬ লাখ টাকা আমানত হিসেবে জমা রেখেছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁর মতো দুই শতাধিক গ্রাহকের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা সমিতিতে জমা রয়েছে। তিনি সমিতির কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী রোকসানা পারভীন অভিযোগ করেন, মানববন্ধনে অংশ নিলে তাঁদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন। তিনি এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে গ্রাহকদের অভিযোগ অস্বীকার না করে সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যবসায়িকভাবে তাঁরা কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধে সমস্যা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গ্রাহকদের ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সবার পাওনা পরিশোধের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অনেক গ্রাহককে লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পত্নীতলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন গ্রাহক আবু বক্কর সিদ্দিক।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়ামুল হক বলেন, সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমিতির টাকা আত্মসাৎকরার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আয়োজিত মানববন্ধনে গ্রাহকেরা দ্রুত তদন্ত করে তাঁদের আমানতের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

আদালতের রায় নিয়েও মাদ্রাসায় ঢুকতে না পারার অভিযোগ অধ্যক্ষের