রেললাইনের পাত ভেঙে ট্রেন চলাচল বন্ধ

রেললাইন ভেঙে রাজশাহী-নাটোরে আটকা ৬ ট্রেন, দুই ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় রেললাইনের পাত ভেঙে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে লোকমানপুর স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় রেললাইন ভাঙা দেখতে পান রেলকর্মীরা। পরে মেরামতকাজ শুরু হলে রাজশাহীর সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়। এতে আব্দুলপুর ও রাজশাহী স্টেশনে ছয়টি ট্রেন আটকা পড়ে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত রেললাইন পরিদর্শনের সময় বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুর স্টেশনসংলগ্ন ২২৭/০ নম্বর রেল পিলারের কাছে পাত ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান কর্তব্যরত রেলকর্মীরা। বিষয়টি নজরে আসার পর তাঁরা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে রেলওয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ শুরু করেন।

রেললাইন মেরামতের সময় রাজশাহীর সঙ্গে সব ধরনের রেল যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেন আটকে যায়। আটকে পড়া ট্রেনগুলোর মধ্যে ছিল সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, কমিউটার ও মধুমতি এক্সপ্রেস। ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে চলতে না পারায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়।

রেললাইন ভেঙে রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ, আটকে ছয় ট্রেন

রেললাইনের পাত ভেঙে ট্রেন চলাচল বন্ধ, দুই ঘণ্টা আটকে ছিল ৬ ট্রেন

ঘটনাস্থলে কর্মরত রেলওয়ের মিস্ত্রি (মেট) মোস্তাক আহমেদ বলেন, রেললাইনের ভাঙা অংশ শনাক্ত হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর দ্রুত সেখানে মেরামতকাজ শুরু করা হয়। আপাতত ভাঙা অংশ দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ মেরামত শেষ হলে ওই অংশ দিয়ে ট্রেনের গতি স্বাভাবিক হবে। অর্থাৎ জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের পর ট্রেন চলাচল শুরু হলেও ভাঙা অংশে আপাতত কম গতিতে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আব্দুলপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মাসুদ রানা বলেন, সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রেললাইন ভাঙার খবর পাওয়া যায়। এরপরই ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মেরামতকাজ শেষ হলে আটকে থাকা ট্রেনগুলো পর্যায়ক্রমে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে শুরু করে।

রেললাইন ভাঙার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় আব্দুলপুর ও রাজশাহী স্টেশনে থাকা যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। মেরামত শেষ হওয়ার পর আটকে পড়া ট্রেনগুলো একে একে চলাচল শুরু করে। তবে ভাঙা অংশে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিলেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল

পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোনো দুষ্কৃতকারীর কারণে রেলপাত ভাঙেনি। পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথের অনেক রেলপাত ৫০ থেকে ৮০ বছর পুরোনো। এসব রেলপাতের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে।

ফরিদ আহমেদ আরও বলেন, পুরোনো রেলপাতের কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান শনাক্ত করা হচ্ছে। রেলপথের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শনের সময় এ ধরনের ত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার সকালে রেললাইন ভাঙার বিষয়টি ধরা পড়ার পর দ্রুত মেরামতকাজ শুরু করায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। রেলকর্মীরা ভাঙা অংশ মেরামতের পাশাপাশি ওই অংশ দিয়ে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে গতি কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু হলে আব্দুলপুর ও রাজশাহী স্টেশনে আটকে থাকা ট্রেনগুলো পর্যায়ক্রমে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে ভাঙা অংশে ধীরগতিতে ট্রেন চালানোর কারণে ওই অংশ পার হতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সময় লাগছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কোনো নাশকতা বা দুষ্কৃতকারীর কারণে ঘটেনি। পুরোনো রেলপাতের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রেললাইনের পাত ভেঙে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে জরুরি মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হলেও ভাঙা অংশ দিয়ে আপাতত ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে রেলওয়ে কতৃপক্ষ। পূর্ণাঙ্গ মেরামত শেষ হলে ওই পথে ট্রেনের গতি স্বাভাবিক হবে।