চোর সন্দেহে শামীমকে হত্যা, বগুড়ায় সড়ক অবরোধ

চোর সন্দেহে রাতভর নির্যাতন, পায়ের রগ কেটে শামীমকে হত্যা, বগুড়ায় সড়ক অবরোধ

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বগুড়ার সদর উপজেলার বারপুর এলাকায় চোর সন্দেহে শামীমকে হত্যা করা হয়েছে। চোর সন্দেহে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ফেলে রাখা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত শামীম হোসেন বগুড়া সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তাঁর মরদেহ বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তাঁর ছেলেসহ কয়েকজন সরাসরি জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের শাশুড়ি ছোবেদা বেগমের ভাষ্য, এক নিকটাত্মীয়ের দাফনে অংশ নিতে শামীম বারপুর এলাকায় গিয়েছিলেন। রাতে দাফন শেষে তিনি সেখানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় চোর সন্দেহে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে আটক করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শামীম হোসেনের মৃত্যুর প্রতিবাদে বগুড়ায় সড়ক অবরোধ

চোর সন্দেহে শামীমকে হত্যা, তদন্তে পুলিশ

ছোবেদা বেগমের অভিযোগ, আটকের পর শামীমকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত অবস্থায় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ফেলে রাখা হয়।

পরে খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শামীমকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

শামীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনার প্রতিবাদে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন।

অবরোধের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

সান্তাহারে এক রাতে ৬ দোকানে চুরি

অবরোধকারীদের একজন রাকিবুল হাসান বলেন, শামীমকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, শামীম কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে শামীমকে আটকের পর তাঁর ওপর কীভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশের তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়দের সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে শামীমকে আটকের পর তাঁর ওপর হামলা, নির্যাতন ও মৃত্যুর সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারে শোক নেমে এসেছে। অন্যদিকে চোর সন্দেহে শামীমকে হত্যার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বারপুর ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা কতটা ছিল, সেটিই সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।