নওগাঁয় ধান-চালের দাম কমায় হতাশ কৃষক

নওগাঁয় কমল চাল-ধানের দাম, বিপাকে কৃষক

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁয় ধান-চালের দাম আরও কমেছে। এতে চালের দাম কমায় ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ধানের দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। এক থেকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি এক থেকে দুই টাকা কমেছে। একই সময়ে আউশ ধানের দাম মণপ্রতি কমেছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীরা জানান, মোকামে চালের পাইকারি বেচাকেনা কমে যাওয়ায় গুদামে মজুত বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে চাহিদা কম থাকায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে দাম কমিয়ে চাল বিক্রির চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, গত বছর প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল আমদানি হওয়ায় দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত চাল মজুত রয়েছে। মজুত বেশি থাকায় মোকামে চাহিদা কমেছে। ফলে মিলমালিকেরা ধান কেনাও কমিয়ে দিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে আউশ ধানের বাজারে।

নওগাঁর বাজারে কমেছে আউশ ধানের দাম

নওগাঁয় ধান-চালের দাম কমায় ভোক্তাদের স্বস্তি ফিরলেও হতাশ কৃষক

তিনি বলেন, গত তিন-চার বছরের তুলনায় এ বছর ধান-চালের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। কৃষকেরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য আউশ মৌসুমেও সরকারের চাল বা ধান কেনা উচিত।

বর্তমানে নওগাঁর বাজারে আউশ ধান—পারিজা ও ব্রি ধান-৪৮—প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এই ধানের দাম ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। গত বছরের একই সময়ে দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা।

এ ছাড়া গত ইরি-বোরো মৌসুমের কাটারি ধান বর্তমানে প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে এর দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। জিরা ধানের দাম এখন প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় জিরা ধানের দাম সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

ধানের পাশাপাশি কমেছে চালের দামও। নওগাঁর মোকামে পাইকারিতে জিরা চাল প্রতি কেজি ৫৬ থেকে ৬১ টাকা এবং কাটারি চাল ৭৩ থেকে ৭৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এক সপ্তাহে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে প্রায় দুই টাকা এবং এক মাসে তিন থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

মোটা চাল হিসেবে পরিচিত স্বর্ণা চাল বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪২ থেকে ৪৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা।

আরও পড়ুন

ভটভটির ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষার্থী সিয়ামের

এদিকে ধান-চালের মজুত ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে চালকল মালিকদের সঙ্গে সভা করেছে জেলা প্রশাসন। সভায় চালের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে মিলমালিকদের সতর্ক করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, চালে কৃত্রিমভাবে সুগন্ধি মেশানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা করা যাবে না। একই সঙ্গে চাল সাদা করার জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন তিনি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ফরহাদ খোন্দকার বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত চাল মজুত রয়েছে। তাই আগামী তিন মাসে নওগাঁয় ধান-চালের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। কেউ অবৈধভাবে চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে চালের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকেরা কীভাবে উৎপাদন খরচ তুলবেন, সেটি নিয়ে চিন্তা চলছে বলে জানান তিনি। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আউশ মৌসুমে সরকারি চাল কেনার পাশাপাশি ধান থেকে বায়োফুয়েল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের।