মান্দায় এনআইডির তথ্য সরবরাহ

নওগাঁর মান্দায় সার্ভারে ঢুকে এনআইডি-সিডিআর তথ্য সরবরাহের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সংরক্ষিত এনআইডি-সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে নওগাঁর মান্দায় এনআইডির তথ্য সরবরাহের অভিযোগে মো. আব্দুস সালাম সরকার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৫। তাঁর কাছ থেকে একাধিক কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সর্বশেষ লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র‍্যাব-৫ রাজশাহী ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, রোববার ভোর ৫টার দিকে মান্দা উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের বিপরীতে প্রসাদপুর গ্রামের ‘সরকার কম্পিউটার ও অনলাইন পয়েন্ট’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নওগাঁর মান্দায় এনআইডি-সিডিআর তথ্য সরবরাহের অভিযোগে র‍্যাবের অভিযান

মান্দায় এনআইডির তথ্য সরবরাহ, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মামলা

সংস্থাটির দাবি, আব্দুস সালাম ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তারা ডিজিটাল ডিভাইস, বিভিন্ন অনলাইন আইডি ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করতেন। পরে সার্ভার থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ র‍্যাবের।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করার সুবাদে আব্দুস সালামের নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে ধারণা তৈরি হয়। পরে তিনি বিভিন্ন অনলাইন আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে এসব তথ্য সরবরাহ করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন

গভীর রাতে আগুনে পুড়ল তিন ঘর, মান্দায় ক্ষতি ৩ লাখ টাকা

অভিযানের পর আব্দুস সালামের মোবাইল ফোন যাচাই করে একাধিক সিডিআর এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সর্বশেষ লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‍্যাব। এসব তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোথায় সরবরাহ করা হতো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব আরও দাবি করেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুস সালাম ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নওগাঁর মান্দা থানায় মামলা করা হয়েছে।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মান্দায় এনআইডির তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগের পাশাপাশি সিডিআর ও মোবাইল নম্বরের সর্বশেষ লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে এসব তথ্যের উৎস, কীভাবে বিভিন্ন সার্ভারে প্রবেশ করা হয়েছে এবং কারা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার আব্দুস সালামের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

চক্রটি কতসংখ্যক মানুষের এনআইডি-সংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য গোপন তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং এসব তথ্যের বিনিময়ে কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

এদিকে অভিযানে পাওয়া মোবাইল ফোন, সিডিআর ও বিভিন্ন নম্বরের সর্বশেষ লোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। এসব তথ্যের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা অনলাইন আইডির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মামলা হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।