বগুড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযান

চকসূত্রাপুরে ডিবির হঠাৎ অভিযান—হাড্ডিপট্টিতে একই পরিবারের দুইজন গ্রেফতার

হঠাৎ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকায় প্রথমে কৌতূহল তৈরি হলেও পরে জানা যায়, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটি অভিযান। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল নির্দিষ্ট একটি স্থানে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় সেখান থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ তল্লাশি ও সংশ্লিষ্ট স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, যা বর্তমানে মাদক হিসেবে অপব্যবহৃত হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চকসূত্রাপুর হাড্ডিপট্টি এলাকার মৃত আলী আকবরের ছেলে নাহিদ উদ্দীন (৩৮) এবং তার শাশুড়ি আমেনা বেগম (৫৫)।
একই পরিবারের দুই সদস্যকে একসঙ্গে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বগুড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে মোট ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া শহরসহ আশপাশের এলাকায় মাদকসেবীদের কাছে এসব ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছিলেন।
পুলিশের ধারণা, তারা একটি চক্র গড়ে তুলে অবৈধভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
শহর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযান সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মাদকের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, বগুড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

By Borsha