বগুড়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিদ্যমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থলে এখন সেখানে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই উদ্যোগকে বগুড়াবাসীর জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, বগুড়ায় আগে থেকেই একটি বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। তবে জেলার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার চাহিদা বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জোরালো ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত ১৪ এপ্রিল বগুড়া বৈশাখী মেলায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ঘোষণা করেন। এর আগে ১২ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইন সংশোধন, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ,নতুন বিভাগ ও আধুনিক গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধির সুযোগ। এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়)। কমিটিতে আরও রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, যুগ্ম সচিব, আইন কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যমান বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ সংশোধন করে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন নতুন বিভাগ চালু, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাব সুবিধা এবং উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম আবারও গতি পায়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং Higher Education ক্ষেত্রে বগুড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ এখন শিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এটি ভবিষ্যতে হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করবে। SEE MORE>>> Post navigation বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু, এলাকায় শোক বগুড়ার সোনাতলায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিভ্রাট, কেন্দ্রসচিব অব্যাহতি