ডাবের পানি খাইয়ে প্রতারণা চক্র গ্রেফতার নওগাঁ পুলিশ

ডাবের পানি খাইয়ে প্রতারণা: নওগাঁয় 4 সদস্যের চক্র গ্রেপ্তার

ডাবের পানি খাইয়ে প্রতারণা করে অটোরিকশাচালককে অজ্ঞান করে রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নওগাঁয় একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বগুড়া ও গাইবান্ধা থেকে ১৮ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই বেলা সাড়ে দশটার দিকে নওগাঁ শহরে এক অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে রিকশা রিজার্ভ ভাড়া নেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। সদর হাসপাতালে রোগী দেখার কথা বলে চালককে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। পরে চক্রের আরও দুই সদস্য যোগ দিয়ে নিজেদের নবজাতক সন্তানের বাবা-মা পরিচয় দিয়ে চালককে মিষ্টি খেতে দেয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, এরপর চালককে একটি ডাব খেতে দেওয়া হয়, যাতে আগে থেকেই চেতনানাশক মেশানো ছিল। ডাবের পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েন চালক। এই সুযোগে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।

ডাবের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রতারকরা

ডাবের পানি খাইয়ে প্রতারণা: পুলিশের সফল অভিযান

ঘটনার পর সদর থানায় মামলা হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা বিশেষ অভিযানে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

নওগাঁ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল বগুড়া ও গাইবান্ধায় ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ১২ জুলাই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাদের নওগাঁয় আনা হয়। উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং থানার লোহাই মুরি গ্রামের ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনার খেজুরতলা গ্রামের হুমায়ন কবির (৫০), বগুড়ার শাহজাহানপুর থানার ফুল দিঘি পূর্বপাড়ার খাজা মিয়া (৫৬) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার জিরাই গ্রামের আব্দুল গফুর (৪১)।

পুলিশ জানায়, ইব্রাহিমের কাছ থেকে রিকশা বিক্রির ১ হাজার ৪৩০ টাকা, চারটি মোবাইল ফোন ও ১০ পিস ঘুমের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। হুমায়ুনের কাছে পাওয়া যায় রিকশা বিক্রির দশ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল। গফুরের কাছ থেকে সরাসরি উদ্ধার হয় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা, আর খাজার কাছে পাওয়া যায় দুটি মোবাইল ফোন।

পুলিশ জানায়, ইব্রাহিম ও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে তারা ডাবের পানি খাইয়ে প্রতারণা করে মানুষকে অজ্ঞান করে সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল বলে জানায় পুলিশ। খাজা মিয়া ও আব্দুল গফুর সম্পর্কে শালা-দুলাভাই, তারা চুরি করা সম্পদ কেনাবেচার কাজে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

প্রবাসীর স্ত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাবের অডিও ভাইরাল