নওগাঁর ধামইরহাটে জমি লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে পাল্টাপাল্টি মামলা ও উত্তেজনা নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার একটি গ্রামে জমি লেনদেন নিয়ে বিরোধ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ জমি বিক্রির আলোচনা হিসেবে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি রূপ নেয় আইনি লড়াই ও প্রতারণার অভিযোগে। স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাংরা গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা তার পিতা মরহুম রিয়াজ উদ্দিনের মালিকানাধীন ১৬ শতাংশ জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। এ সময় তার ছোট ভাই মো. কামরুজ্জামান স্থানীয় বাসিন্দা মো. রকি বাবুর সঙ্গে জমি বিক্রির চুক্তি করেন। জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট সাক্ষীদের উপস্থিতিতে রকি বাবু অগ্রিম ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং সেই টাকার বিপরীতে একটি হ্যান্ডনোট গ্রহণ করেন। বাকি টাকা পরিশোধের পর জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার কথা ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জমি রেজিস্ট্রির জন্য উভয় পক্ষ ধামইরহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হন। অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় রকি বাবুর কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তিনি জমিটি আবার গোলাম মোস্তফার কাছে বন্ধক রাখার প্রস্তাব দেন। জমি লেনদেন নিয়ে বিরোধ ,চুক্তির শর্ত পূরণ না হওয়ায় তৈরি হয় জটিলতা ও অভিযোগ সরল বিশ্বাসে গোলাম মোস্তফা তাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং এর বিপরীতে আরেকটি হ্যান্ডনোট গ্রহণ করেন। তবে পরবর্তীতে বাকি টাকা পরিশোধ, পূর্বের হ্যান্ডনোট ফেরত দেওয়া এবং চুক্তির শর্ত পূরণ না করার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষীর দাবি, একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জমি লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া পাওনা টাকা চাইতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টাও করা হয়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত রকি বাবু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি নিয়ম অনুযায়ী জমি কিনেছেন এবং সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেছেন। তার মতে, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি এবং বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে সমাধান হবে। সবশেষে জানা যায়, নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ৪নং উমার ইউনিয়নে জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত এই বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে ভুক্তভোগী পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। SEE MORE>>> Post navigation বদলগাছীতে জাতীয় বিজ্ঞান মেলা, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনে দর্শনার্থীদের ভিড় নওগাঁ এলএসডি খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে চাম্পা সভাপতি, মিঠু সাধারণ সম্পাদক