হাজীগঞ্জে গুলি উদ্ধার

হাজীগঞ্জের পরিত্যক্ত বাড়িতে সেনা-পুলিশ অভিযানে ১৯৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে গুলি উদ্ধার ঘটনায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য।
সাধারণ কোনো অপরাধ নয়, বরং আধুনিক সমরাস্ত্রের বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে। তখন অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন।
ঠিক সেই সময় হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টোরাগড় খেয়াঘাট সংলগ্ন একটি সেমিপাকা টিনশেড বাড়িতে সেনাবাহিনী ও হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ-এর যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয়ভাবে জনৈক আমির হোসেনের মালিকানাধীন এই বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
তবে এই পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরেই যে বড় ধরনের কোনো গোপন কর্মকাণ্ড লুকিয়ে থাকতে পারে, তা কেউ ধারণাও করতে পারেনি।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ঘরের ভেতর তল্লাশির এক পর্যায়ে ভাঙা খাটের নিচে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়।
পরে সেখানে থাকা পলিথিন মোড়ানো চারটি ছোট বাক্স উদ্ধার করা হয়। বাক্সগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে মোট ১৯৩ রাউন্ড তাজা গুলি।
প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, এসব গুলি অত্যন্ত শক্তিশালী লং রাইফেল অ্যামুনিশন, যা সাধারণ অপরাধীদের কাছে সচরাচর পাওয়া যায় না।

হাজীগঞ্জে গুলি উদ্ধার ঘটনার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাজীব শর্মা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত গুলি বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে।
তবে অভিযানের সময় ঘরের ভেতর বা আশেপাশে কাউকে পাওয়া যায়নি, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এই বিপুল পরিমাণ গুলি কেন ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে রাখা হয়েছিল, এর পেছনে কোনো সংগঠিত সন্ত্রাসী চক্র বা নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
ঘরের মালিক আমির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে।
গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে যাতে দ্রুত এই ঘটনার পেছনের মূল চক্রকে চিহ্নিত করা যায়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো হাজীগঞ্জজুড়ে জনমনে আতঙ্কের পাশাপাশি কৌতূহলও তৈরি হয়েছে।
এখন সবার চোখ পুলিশের তদন্তের দিকে—কখন বেরিয়ে আসবে এই ১৯৩ রাউন্ড গুলির রহস্যের আসল উৎস।

By Borsha