করতোয়া নদী পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৩0 কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হবে করতোয়া নদী পুনঃখনন প্রকল্প বগুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখন বাস্তবতার পথে এগোতে শুরু করেছে।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! একসময় জেলার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই নদী ছিল নৌপথ, মাছ ধরা এবং স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে করতোয়া নদী এখন প্রায় মৃতপ্রায়—পানি প্রবাহ কমে যাওয়া, দখল এবং দূষণের কারণে এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বহুল আলোচিত করতোয়া নদী পুনঃখনন প্রকল্প নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, আগামী ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৩0 কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হবে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে আসবে, যা কৃষি সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীতীর ভাঙন প্রতিরোধ এবং অবৈধ দখল ও দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পলিমাটি অপসারণের মাধ্যমে নদীর গভীরতা বাড়বে এবং জলজ প্রাণবৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। করতোয়া নদী পুনঃখনন প্রকল্প পরিকল্পনায় শুধু পুনঃখনন নয়, নদীর দুই তীর উন্নয়নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নদীর পাশে পাড় নির্মাণ, কিছু এলাকায় শিশুদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি, এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় ছয় কিলোমিটার স্লোপ প্রোটেকশন ও এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে পরিচালিত হবে। স্থানীয়দের মতে, করতোয়া নদী একসময় বগুড়ার অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। খুলনা থেকে নৌকায় পণ্য আনা-নেওয়া, নদীপথে যাতায়াত এবং মাছ ধরা—সবই এই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু নদীর উৎসমুখে বাঁধ নির্মাণ, পানি প্রবাহ কমে যাওয়া এবং শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সরাসরি নদীতে যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে গেছে। ২০১০ সাল থেকে ‘করতোয়া বাঁচাও’ আন্দোলনের মাধ্যমে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা নদী রক্ষায় কাজ করে আসছেন। তাদের দীর্ঘ আন্দোলন এবং জনসচেতনতার ফলেই আজ এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, করতোয়া নদী পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু পরিবেশগত উন্নয়নই নয়, বরং বগুড়ার নগর পরিকল্পনা, পর্যটন সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নদীটি আবারও শহরের সৌন্দর্য ও জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে। সর্বোপরি, এই প্রকল্প বগুড়ার মানুষের জন্য একটি বড় আশার প্রতীক। এখন সকলের প্রত্যাশা—দ্রুত অনুমোদন ও সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে করতোয়া নদী আবার তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে। SEE MORE>>> Post navigation নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা: বগুড়ায় লাইনচ্যুতির পেছনে তিন পর্যায়ে অবহেলা জ্বালানি আতঙ্কে দেশজুড়ে পাম্পে ভিড়: মজুত আছে মাত্র ১১ দিনের ডিজেল