চলন্ত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে নারী ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্ত শুরু

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেনটিতে গত ৩১ আগস্ট রাতে চলন্ত অবস্থায় এক নারীকে ধর্ষণের ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ট্রেনে দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চলন্ত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে নারীকে ধর্ষ’ণে, ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার!

ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ট্রেনের ক্যান্টিনবয় আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশ। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওই নারীর সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল উদ্দিন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চলন্ত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে নারী ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ধর্ষণের অভিযোগ,৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ নারীর

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট রাত ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নাটোর স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ওই নারী জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তিনি ট্রেনের ভেতরে ধর্ষণের অভিযোগ জানান।

অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় রেলওয়ে পুলিশ। পরে ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে সেদিন সকালে পার্বতীপুর থেকে ক্যান্টিনবয় আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাকে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় মামলা করেন।

ঘটনার পর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পাকশী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না এবং তারা দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ধুনটে ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্টে কিশোরীকে অপহরণ, আসামি গ্রেপ্তার

রেলওয়ে পুলিশের ঈশ্বরদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দ্বীন-ই-আলমকে প্রধান করে দুই সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, ওই সম্পর্ক পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিল এবং এতে জোরপূর্বক কিছু ঘটেনি।

অর্থাৎ, একদিকে ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদিকে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগের পর গ্রেপ্তার হওয়া আবু বকর সিদ্দিককে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার বিষয়টিও আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে পুলিশ সুপারের কাছে তথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলেও অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক আদালতে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ক হিসেবে দাবি করেছেন।

ফলে মামলার অভিযোগ, অভিযুক্তের বক্তব্য এবং ঘটনার সময় ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা—সবকিছুই তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি মো. দুলাল উদ্দিন জানান, অভিযোগের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে কমিটি করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।