মান্দার লক্ষ্মীর মোড়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুধের হাটে প্রতিদিন লাখ টাকার বেচাকেনা নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের লক্ষ্মীর মোড় এলাকায় ব্যস্ত সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে দুধের হাটে প্রতিদিন লাখ টাকার ব্যবসা গড়ে উঠেছে ।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! কোনো স্থায়ী অবকাঠামো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলেও প্রায় তিন দশক ধরে এই হাটে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে দুধ কেনাবেচা কার্যক্রম। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য এই হাট জমে ওঠে। দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে সাইকেল, ভ্যান এবং হাতে করে খামারিরা বড় বড় জার, বোতল ও বালতিতে দুধ নিয়ে আসেন। একই সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে দ্রুত দরদাম শেষে দুধ সংগ্রহ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বাজার কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই হাটে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মণ দুধ কেনাবেচা হয়। অর্থমূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অল্প সময়ের বেচাকেনা হলেও এটি স্থানীয় দুধ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। জোতবাজার থেকে আসা দুধ বিক্রেতা মো. আব্দুল মান্নান জানান, এখানে লিটার প্রতি দুধের দাম প্রায় ৪০ টাকা। তবে ব্যস্ত সড়কের দুই পাশে হাট বসায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। পাইকারদের দীর্ঘদিনের দুধ কেনাবেচার অভিজ্ঞতায় দুধের হাটে প্রতিদিন লাখ টাকার ব্যবসা তিনি জানান, অতীতে তার পরিবারের সদস্যরাও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, যার কারণে অনেকেই এই বাজারে আসতে ভয় পান। অন্যদিকে মোজাম্মেল হক নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দ্রুত বেচাকেনা শেষ হয় এবং পাইকাররা এখান থেকে দুধ সংগ্রহ করে বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করেন। তবে সড়কের ব্যস্ততা সবসময়ই বড় ঝুঁকি তৈরি করে। পাইকারি ক্রেতা পরিতোষ কুমার জানান, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে এই বাজার থেকে দুধ সংগ্রহ করছেন। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ মণ দুধ কিনলেও ব্যস্ত সড়কের কারণে সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বাজার কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, এটি একটি পুরনো বাজার হলেও নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় সড়কের ওপরই বেচাকেনা হয়। অতীতে এখানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তাই তিনি সরকারি জায়গা বরাদ্দ করে বাজারটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানান। ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে জায়গা বরাদ্দের আবেদন করা হবে এবং স্থায়ী বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়রা মনে করেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে এই ঝুঁকিপূর্ণ দুধের হাট ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নিরাপদ ও পরিকল্পিত বাজার স্থাপনের দাবি এখন সময়ের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। SEE MORE>>> Post navigation নওগাঁর মহাদেবপুরে ইটভাটার ধোঁয়ায় ৭০ বিঘা ধান নষ্ট, কৃষকদের মানববন্ধন পুঠিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার দুই ডাম্প ট্রাকে আগুন