মান্দায় চাঁদা দাবিতে হামলা, ৫ মাস পর উজ্জল প্রামাণিকের মৃত্যু

মান্দায় চাঁদা না দেওয়ায় হাতুড়িপেটার অভিযোগ, পাঁচ মাস পর উজ্জল প্রামাণিকের মৃত্যু

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর মান্দায় চাঁদা দাবিতে হামলার অভিযোগে গুরুতর আহত সারওয়ার জাহান উজ্জল প্রামাণিক (৪৫) মারা গেছেন। প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত উজ্জল নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের চকভোলাই গ্রামের কছিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে।

মান্দায় হাতুড়িপেটায় আহত উজ্জল প্রামাণিক পাঁচ মাস পর মারা গেছেন

মান্দায় চাঁদা দাবিতে হামলা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে উজ্জল একই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বসতবাড়ি কিনেছিলেন। বাড়ি কেনার পর থেকেই কালীগ্রাম গ্রামের ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ (৫০) ও তাঁর সহযোগীরা উজ্জলের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২২ মার্চ দুপুরে উজ্জলকে কালীগ্রাম উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পেছনে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এজাহারে বলা হয়েছে, ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ ও শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন উজ্জলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর জখম হয়।

ঘটনার পর উজ্জলের স্ত্রী সাথী আক্তার বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা করেন। মামলায় ইউপি সদস্য রাজু আহমেদসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সাথী আক্তার জানান, হামলার পর তাঁর স্বামীকে দীর্ঘদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে তাঁকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর উজ্জলকে আবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন

বগুড়ায় গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামী-শ্বশুর গ্রেপ্তার

উজ্জলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম।

ওসি বলেন, চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনায় করা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মারধরের কারণে উজ্জলের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে এ ঘটনায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

উজ্জলের মৃত্যুর পর প্রায় পাঁচ মাস আগে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ওই হামলার সরাসরি সম্পর্কের বিষয়টি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসতবাড়ি কেনার পর উজ্জলের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই তাঁকে মারধরের অভিযোগ করা হয়।

দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর উজ্জলের মৃত্যু হওয়ায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।