মুরগির দাম বৃদ্ধি

মুরগির দাম বৃদ্ধি:ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে

রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই মুরগির দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

খুচরা বাজারে এখন প্রতি কেজি মুরগি কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সদর, কল্যাণপুর নতুন বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৪২০ থেকে ৪৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

কিছু এলাকায় এই দাম আরও বেড়ে ৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে হাইব্রিড প্রজাতির কালারবার্ড মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরবরাহ কমে যাওয়াই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

তারা জানান, গত দুই থেকে তিন মাসে খামারগুলোতে মুরগির রোগবালাই বেড়ে যাওয়ায় অনেক মুরগি মারা গেছে।

ফলে বাজারে সরবরাহ কমেছে এবং সেই সুযোগে দাম বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে খামারিরা বলছেন, উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা আগের মতো মুরগি উৎপাদন করতে পারছেন না।

মুরগির দাম বৃদ্ধি  প্রায় দেড় গুণ । আগে যেখানে একটি বাচ্চা ৩০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়।

পাশাপাশি খাদ্যের দামও কেজিপ্রতি ২ থেকে আড়াই টাকা বেড়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বাজারে পণ্য সরবরাহে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর চাপ হিসেবে পড়ছে।

সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সোনালি মুরগির দাম প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধু গত এক মাসেই দাম বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ, যা বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে খামারিদের জন্য প্রণোদনা, খাদ্য ও বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

একই সঙ্গে বাজার তদারকি জোরদার করলে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফা রোধ করা সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতারা যেমন চাপে পড়েছেন, তেমনি খামারিরাও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে দিশেহারা।

তাই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে মুরগির বাজারে এই অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

SEE MORE>>>

By Borsha