নওগাঁয় আগাম ধান কাটা

বৈরী আবহাওয়ায় নওগাঁজুড়ে আগাম ধান কাটায় বিপাকে কৃষক, কমছে ফলন ও বাড়ছে ক্ষতির শঙ্কা

আকাশজুড়ে কালো মেঘ, দমকা হাওয়ার ঝাপটা আর থেমে থেমে বৃষ্টিতে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে বিপাকে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা ফলে নওগাঁয় আগাম ধান কাটা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে নওগাঁ জেলায় এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
কয়েকদিন আগেও যেসব মাঠে সবুজ ধানের শীষ দুলছিল, এখন সেই মাঠের অনেক জায়গায় পানি জমে গেছে।
কোথাও ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।
মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক কৃষক সময়ের আগেই ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।
কেউ নিজ হাতে কাঁচি দিয়ে ধান কাটছেন, আবার কেউ শ্রমিক নিয়ে ব্যস্ত ফসল ঘরে তুলতে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম এখন শ্রমিক সংকট।
পানিতে নেমে কাজ করতে অনীহা থাকায় শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফলে বাধ্য হয়ে বাড়তি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে, যা কৃষকদের খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সদর উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে ধানগাছ নুয়ে পড়েছে।
এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানিতে পড়ে থাকা ধান বেশিদিন থাকলে পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই আগাম ধান কাটার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
তবে এতে ধানের মানও কমে যাচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বিঘায় যেখানে ১৯ থেকে ২২ মণ ধান পাওয়া যেত, সেখানে এবার সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ১৬ মণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নওগাঁয় আগাম ধান কাটা শুরু, শুকানো ও সংরক্ষণে দেখা দিয়েছে সংকট।

এছাড়া আধাপাকা ধান হওয়ায় বাজারদরও কম পাওয়া যাচ্ছে।
ফলে কাঁচা ধান কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এদিকে নতুন আরেকটি সমস্যা তৈরি হয়েছে—রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না।
এতে করে সংরক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ভেজা ধান ঘরে তুলছেন, যা পরবর্তীতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
জেলার ১১টি উপজেলার বেশিরভাগ মাঠেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে বিলাঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
এ অবস্থায় কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন, ধান অন্তত ৮০ শতাংশ পাকলে কাটতে, যাতে ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন অনিয়মিত আবহাওয়া এখন বাড়ছে।
তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, উন্নত জাতের ধান এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
সবশেষে বলা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নওগাঁয় আগাম ধান কাটা এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এতে একদিকে যেমন ফলন কমার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে।

By Borsha