বোরো ধানের বাম্পার ফলন

নওগাঁয় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও দাম কম | শঙ্কায় কৃষক

নওগাঁ জেলার গ্রামাঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাশাপাশি চলছে ধান কাটার ব্যস্ত মৌসুম।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ—কোথাও কৃষকেরা ধান কাটছেন, কোথাও মাড়াই করছেন, আবার কোথাও শুকানোর জন্য উঠানে ছড়িয়ে রাখছেন।

তবে প্রকৃতির বিরূপ আচরণ এবং বাজারে ধানের কম দাম কৃষকদের মুখে হাসির বদলে হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।

Naogaon District দেশের অন্যতম ধান উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত।

চলতি রবি মৌসুমে জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকেরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না।

অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ভেজা ধানই বাজারে বিক্রি করছেন, কারণ পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি লিজ নেওয়া, চারা রোপণ, সেচ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক খরচ, ধান কাটা ও মাড়াইসহ বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

কিন্তু বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করে সেই খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বোরো ধানের বাম্পার ফলন এর মাঝেও কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা।

অনেকেই বলছেন, লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই ফেরত আসছে না।

একাধিক কৃষক জানান, তারা স্থানীয় এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তিগতভাবে ধার-কর্জ করে চাষাবাদ করেছেন।

এখন ফসল ঘরে ওঠার আগেই পাওনাদারদের চাপ শুরু হয়েছে। এতে তারা বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে স্থানীয় চালকল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধান ও চালের সরবরাহ বেশি থাকায় তারা নতুন করে ধান কিনতে আগ্রহী নন।

আগের আমদানির প্রভাব এবং বাজারে চাহিদা কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক চাপে রয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, সরকার দ্রুত খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ শুরু করলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

এতে বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং দামও স্থিতিশীল হতে পারে। Department of Agricultural Extension Bangladesh-এর জেলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো পুরোপুরি ধান কাটা শেষ হয়নি।

বর্তমানে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। মৌসুমের শেষ দিকে ধান শুকিয়ে বাজারে এলে দাম কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা কৃষকদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ঋণের চাপ, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতায় কৃষকেরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

সবশেষে জানা গেছে, বাম্পার ফলনের সুখবর থাকলেও বাজারে ধানের কম দাম এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে নওগাঁর কৃষকেরা এবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

SEE MORE>>>

By Borsha