নওগাঁর পশুর হাটRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

কুরবানির ঈদ সামনে, নওগাঁর পশুর হাটে সরবরাহ বেশি হলেও ক্রেতা কম

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নওগাঁর পশুর হাট সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমে ওঠার কথা বেচাকেনা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

প্রতি বছর এই সময় হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, দরদাম আর কোরবানির পশু নিয়ে ব্যস্ততা দেখা যায়।

তবে এবার উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান জেলা নওগাঁর পশুর হাটগুলোতে দেখা যাচ্ছে কিছুটা ভিন্ন চিত্র।

পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও প্রত্যাশিত ক্রেতার উপস্থিতি এখনও তেমন চোখে পড়ছে না।

জেলার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর সংখ্যা বেশি।

শনিবার মহাদেবপুর সদর হাট, রোববার চকগৌরি হাট এবং সোমবার নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া হাটে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়।

সারি সারি গরু নিয়ে বসে থাকলেও অনেক খামারিকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে ক্রেতার জন্য।

হাটে আসা ব্যবসায়ী ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই এবার সবচেয়ে বেশি।

এসব গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে বড় গরুর দাম ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।

এছাড়া বকনা গরুর দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক ক্রেতা সেদিকেই ঝুঁকছেন।

নওগাঁর পশুর হাট এ ৫০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরু

ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি।

তাই অনেকেই একাধিক হাট ঘুরে দাম যাচাই করছেন। কেউ কেউ শেষ সময়ের অপেক্ষায়ও রয়েছেন, যাতে কম দামে ভালো পশু কেনা যায়।

তবে খামারিদের দাবি, পশু পালনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় কম দামে গরু বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

খামারিরা জানান, দানাদার পশুখাদ্য, খড়, ভুসি ও ওষুধের দাম গত এক বছরে অনেক বেড়েছে।

বিশেষ করে দানাদার খাদ্যের প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে গেছে। ফলে গরু লালন-পালনে বাড়তি খরচ যোগ হওয়ায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার খামারে প্রায় ৮ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

জেলার মোট চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার পশু। চাহিদা পূরণের পরও উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।

জেলার ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০টি পশুর হাট এবার কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে।

তবে বর্তমানে ইরি-বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের মৌসুম চলায় কৃষকদের বড় একটি অংশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এখনো হাটে আসতে পারেননি। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ঈদের তারিখ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি বাড়বে এবং বেচাকেনাও জমে উঠবে।

স্থানীয়দের মতে, নওগাঁ দেশের অন্যতম বড় কৃষি ও পশুপালন নির্ভর জেলা হওয়ায় এখানকার পশুর হাট শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করে না, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও গবাদিপশু সরবরাহ করে থাকে।

তাই শেষ সময়ে বাজার চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

SEE MORE>>>

By Borsha