রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের উত্তেজনার জেরে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটসংলগ্ন আমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রনেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্স ভবনের সামনে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের জুনিয়রদের নিয়ে বসেছিলেন। এ সময় সেখানে র্যাগিং হচ্ছে কি না, এমন সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি অভিযান চালায়। তবে পরে সেখানে গিয়ে কোনো ধরনের র্যাগিংয়ের আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল জাবিদ হাসান। পরে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিযোগ ওঠে, জাবিদ ঘটনাস্থলের ছবি তুলে প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় জাবিদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে দুই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ভুল বোঝাবুঝি থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ তবে ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা থেকেই যায়। মঙ্গলবার দুপুরে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, ইইই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আগের দিনের ঘটনা নিয়ে জাবিদ ও তার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। পরে দুই বিভাগের সিনিয়ররা সেখানে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছু সময় পর পরিবহন মার্কেট এলাকায় যাওয়ার সময় জাবিদের এক নারী সহপাঠীকে উদ্দেশ্য করে ইইই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থীরা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় ক্যাম্পাসে উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। তাদের উপস্থিতিতেই কিছু সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান জানান, ছবি তোলা ও ভুল শিক্ষাবর্ষের পরিচয় দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি দুই বিভাগের চেয়ারম্যানদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারা প্রাথমিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষ ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে। তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের আরও কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন। SEE MORE>>> Post navigation কুরবানির ঈদ সামনে, নওগাঁর পশুর হাটে সরবরাহ বেশি হলেও ক্রেতা কম নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তের পথে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শুরু হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম