সাঁড়াশি অভিযানে সন্ত্রাসী গ্রেফতার

নওগাঁর সুলতানপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৩ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সহিংসতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা যখন হুমকির মুখে, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযানে সন্ত্রাসী গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
জেলা পুলিশের এই অভিযানে তিনজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর জেলে পাড়া এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, মারামারি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছিল।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নির্দেশে শনিবার দিবাগত রাত থেকে রবিবার দিনব্যাপী এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও নওগাঁ সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী দল অংশ নেয়।

তারা পুরো এলাকা ঘিরে সম্ভাব্য আস্তানাগুলোতে তল্লাশি চালায় এবং শেষ পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযানে সন্ত্রাসী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা সোহাগ হোসেন (৩০), শাহীন আলম (২৭) এবং ওসমান গনি ওরফে রনি (২৭)।
পুলিশ জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।
অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল অস্ত্র উদ্ধার।
পুলিশ তাদের কাছ থেকে রাম দা, কিরিচ, হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল, ছোরা, লোহার পাইপ ও রডসহ বিপুল দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে।
এসব অস্ত্র দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তারা বড় ধরনের সহিংস হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই গ্রেফতারের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দীর্ঘদিনের আতঙ্কের অবসান ঘটবে বলে তারা আশা করছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে আছি।
সন্ত্রাসীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্ত শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
সব মিলিয়ে, নওগাঁর এই সাঁড়াশি অভিযান কেবল তিনজন সন্ত্রাসীর গ্রেফতারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পুরো এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, পুলিশের এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

By Borsha