নওগাঁ পানের চাষে

সম্ভাবনার সবুজে বদলে যাওয়া কির্ত্তিপুর—ধান ছেড়ে পানে গড়ছে নতুন অর্থনীতি

নওগাঁ পানের চাষ , কির্ত্তিপুর ইউনিয়নের জালম, মাগুড়া ও জাগেশ্বর গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এক ভিন্ন চিত্র।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

চারপাশে সবুজের সমারোহ, সারি সারি পানের বরজ যেন এক নতুন সম্ভাবনার গল্প বলছে।

দূর থেকে মনে হয়, সবুজের ওপর আবারও সবুজের স্তর বসানো হয়েছে। কিন্তু এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে স্থানীয় কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম ও পরিকল্পিত উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন।

একসময় এই অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান ফসল ছিল ধান। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন।

সেই পথ ধরেই শুরু হয় পানের চাষ, যা এখন পুরো এলাকার অর্থনীতিকে নতুন করে গড়ে তুলেছে। বর্তমানে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ জমিতে গড়ে উঠেছে শত শত পানের বরজ।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই এলাকার বেলে দোআঁশ মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া পানের চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

পাশাপাশি সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিচর্যার কারণে উৎপাদনও হচ্ছে ভালো।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং নিজস্ব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তারা একটি কার্যকর চাষ পদ্ধতি গড়ে তুলেছেন, যা সফলতার মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।

গত প্রায় ১৫ বছরে ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে পানের চাষ বিস্তার লাভ করেছে।

বর্তমানে প্রায় ৩০০ জন কৃষক ৭০০টিরও বেশি বরজে বিভিন্ন জাতের পান উৎপাদন করছেন।

এসব পান শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

ফলে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের জীবনমানেও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

কৃষকদের মতে : নওগাঁ পানের চাষ , ধানের তুলনায়  অনেক বেশি লাভজনক। সারা বছরই উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় নিয়মিত আয় নিশ্চিত হয়।

যদিও শুরুতে কিছুটা বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন, তবে নিয়মিত উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কারণে তা দ্রুতই লাভে পরিণত হয়।

সপ্তাহে একাধিকবার পাতা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করা যায়, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছে।

তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রোগবালাই দেখা দেয়, যা উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, কির্ত্তিপুর ইউনিয়নের এই সাফল্য দেশের অন্যান্য এলাকাকেও পানের চাষে আগ্রহী করে তুলবে।

সব মিলিয়ে, নওগাঁর এই জনপদ এখন ‘পানের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে এবং এটি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

SEE MORE>>>

By Borsha