নিয়ামতপুরে ৪ জন হত্যাcanva editing - 1

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, ডাকাতি নাকি পারিবারিক বিরোধ—রহস্য ঘনীভূত

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ৪ জন হত্যা ঘটনায় বাহাদুরপুর গ্রাম হঠাৎ করেই শোক ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায়।
ভোরের নীরবতা ভেঙে কান্না ও চিৎকারে জেগে ওঠে পুরো এলাকা, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করে।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের মতো খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন।
কিন্তু মঙ্গলবার ভোরে এক প্রতিবেশী বাড়ির দরজা খোলা দেখতে পান।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি ভেতরে উঁকি দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন।
তার চিৎকারে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
মরদেহগুলো উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের অনেকেই ধারণা করেন, এটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে।
জানা যায়, ঘটনার দিন পরিবারের কর্তা গরু বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন।
সেই টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে থাকতে পারে এবং পরে পরিচয় ফাঁসের আশঙ্কায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়—এমন ধারণাও প্রচলিত রয়েছে।

নিয়ামতপুরে ৪ জন হত্যা ঘটনার পর ভিন্ন একটি দিক সামনে আসে। নিহত পপি সুলতানার মা দাবি করেন, এটি ডাকাতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতন ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

তার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে জমি বণ্টন নিয়ে বিরোধ ছিল এবং তা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সোমবার গভীর রাতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং শিশুদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সবশেষে বলা যায়, নওগাঁর নিয়ামতপুরের এই চারজন হত্যাকাণ্ড এখন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো এলাকা।

By Borsha