নওগাঁর নিয়ামতপুরে আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ

নিয়ামতপুরে ৯ মাসে ৩১ জনের আত্মহত্যা

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর নিয়ামতপুরে চলতি বছরের নয় মাসে ৩১ জন আত্মহত্যা করেছেন। ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদের মধ্যে তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী ও গৃহবধূর সংখ্যা বেশি।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুরে আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর পেছনে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য বিরোধ, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রেমের বিষয়ে পরিবারের বাধা, মোবাইল ফোন নিয়ে অভিমান, মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদের মতো কারণ উঠে এসেছে।

নিয়ামতপুরে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রম

পারিবারিক কলহ থেকে হতাশা, নিয়ামতপুরে আত্মহত্যা নিয়ে উদ্বেগ

সম্প্রতি উপজেলার পশ্চিম মীরাপাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সাহিদা (২২) নামের এক নারী তাঁর দেড় বছর বয়সী ছেলেকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেন বলে জানা গেছে। এতে শিশুটির মৃত্যু হয় এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহিদারও মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া সেপ্টেম্বর মাসেই একদিনের ব্যবধানে দুই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর গৃহবধূ স্মৃতি কর্ণী (২৫) এবং ৯ সেপ্টেম্বর গৃহবধূ অনিতা বর্মন (৫৫) আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছরের বিভিন্ন সময়েও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ১ জুন স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে শারমিন আক্তার (৩০) আত্মহত্যা করেন। ১৩ মে গৃহবধূ শ্রাবন্তী (১৭) আত্মহত্যা করেন। এর আগে ১৮ এপ্রিল পারিবারিক কলহের জেরে কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান (১৮) আত্মহত্যা করেন।

এ ছাড়া ভাইয়ের সঙ্গে টেলিভিশন দেখা নিয়ে কথা-কাটাকাটির পর কলেজ শিক্ষার্থী সুমনা দাস (১৭) আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমি দখলের অভিযোগ, আত্রাইয়ে উত্তেজনা

শুধু আত্মহত্যা নয়, নিয়ামতপুরে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাও ঘটছে। গত ২৯ আগস্ট পারিবারিক কলহের জেরে এক কৃষক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। একইভাবে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ১০ আগস্ট এক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়সল নাহিদ বলেন, প্রতি মাসেই একাধিক আত্মহত্যার চেষ্টাকারী রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি আত্মহত্যা প্রতিরোধে রোগী ও পরিবারের সদস্যদের সচেতন করা হয়।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, সামান্য পারিবারিক মনোমালিন্য ও কথা-কাটাকাটি থেকেও অনেকে রাগ-অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক। আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ চলছে।

নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন বলেন, প্রত্যেক মানুষের কাছে তাঁর জীবন মূল্যবান। আত্মহত্যা প্রতিরোধে নিজের জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি জানান, উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। এমন সময়ে নিয়ামতপুরে নয় মাসে ৩১ জনের আত্মহত্যার তথ্য স্থানীয়ভাবে বিষয়টির গুরুত্ব ও উদ্বেগ আরও সামনে এনেছে।