পোরশায় হাম রুবেলা টিকাদান

পোরশায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু, শিশুদের ভিড়ে সরগরম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পোরশায় হাম রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ঘিরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে
সকালে হাসপাতাল চত্বরে ছোট ছোট শিশুদের কোলে নিয়ে অভিভাবকদের উপস্থিতি এক ভিন্ন চিত্র তৈরি করে।
কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে, কেউ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সন্তানের সুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, একসঙ্গে অনেক শিশু আসায় মাঝেমধ্যে কিছুটা জটলার সৃষ্টি হলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
প্রতিটি শিশুকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র।
নিতপুর বাজার এলাকার কামরুন নাহার জানান, তাঁর ১৭ মাস বয়সী সন্তান আগেও টিকা নিয়েছিল, তবে কিছু উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এসেছেন।
তাঁর মতে, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য আবার টিকা নেওয়াও জরুরি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এই এলাকায় শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগের উপসর্গ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতোমধ্যে জেলায় ১২৫ জন শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা গেছে এবং অন্তত ১০ জন আক্রান্ত হয়েছে, যাদের বয়স ৫ থেকে ১০ মাসের মধ্যে।
এই পরিস্থিতিতে পোরশা উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধ ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এক ডোজ টিকা দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে অভিভাবকরা দ্রুত তাদের সন্তানদের টিকার আওতায় আনেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা সময়মতো টিকা না দিলে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
তাই শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা প্রদান এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পোরশায় চলমান এই কর্মসূচি শুধু একটি স্বাস্থ্য উদ্যোগ নয়, বরং শিশুদের জীবন রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ থাকলে এই উদ্যোগ সফল হবে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

By Borsha