পোরশায় হাঁস পালন করে সফল আতাউর রহমান

হাঁস পালনে স্বাবলম্বী আতাউর, এখন মাসে আয় ৯০ হাজার টাকা

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পোরশায় হাঁস পালন করে নওগাঁর পোরশা উপজেলার আতাউর রহমানের জীবনে এসেছে স্বচ্ছলতা। প্রায় সাত বছর আগে অভাবের সংসারে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন হাঁস পালন। বর্তমানে তার ভ্রাম্যমাণ খামারে রয়েছে প্রায় ৮৫০টি হাঁস। ডিম বিক্রি করে সব খরচ বাদে মাসে তার আয় হচ্ছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা।

আতাউর রহমান (৫৫) নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের হবির মোড় এলাকার বাসিন্দা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় শুরুতে হাঁস পালনের জন্য নিজের কোনো পুঁজি ছিল না। প্রথম দিকে অন্য কোনো কাজ করার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবারের পরামর্শে তিনি হাঁস পালন শুরু করেন। পরে একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু হয় তার নতুন পথচলা।

শনিবার সকালে পুনর্ভবা নদীতে আতাউরের ভ্রাম্যমাণ হাঁসের খামারে অবস্থানের সময় তার সঙ্গে কথা হয়। আতাউর রহমান জানান, বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৮৫০টি হাঁস রয়েছে। এসব হাঁসের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা। প্রায় সাত বছর ধরে তিনি এভাবে হাঁস পালন করে আসছেন।

পোরশার আতাউর রহমানের ভ্রাম্যমাণ হাঁসের খামার

পোরশায় হাঁস পালন, ডিম বিক্রি করে মাসে আয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা

আতাউর রহমান বলেন, প্রতিদিন হাঁসের ডিম বিক্রি করে প্রায় সাত হাজার টাকা আয় হয়। এর মধ্যে হাঁসের খাবারসহ অন্যান্য খাতে খরচ হয় প্রায় চার হাজার টাকা। ফলে প্রতিদিন খরচ বাদে তার আয় থাকে প্রায় তিন হাজার টাকা। সে হিসাবে মাসে তার নিট আয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন

আশ্রয়হীন ৮ মা-শিশুর পাশে দাঁড়াল নওগাঁর ‘বেলাশেষে’ সমাজ কল্যাণ সংস্থা

তবে তার এই সফলতার শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। পুঁজির অভাবে নদী, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে হাঁসের পাল নিয়ে ঘুরে ঘুরে ভ্রাম্যমাণ খামার পরিচালনা শুরু করেন তিনি। উন্মুক্ত জলাশয়ে হাঁস চরানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভর করায় তার খরচ কমেছে। একই সঙ্গে ডিমের মানও ভালো থাকে বলে জানান তিনি।

পোরশায় হাঁস পালনের আয়েই কিনেছেন জমি, বানিয়েছেন বাড়ি

 হাঁস পালন করে আয় করা অর্থে আতাউর রহমানের পরিবারের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন এসেছে। নিজের উপার্জনে তিনি দুই বিঘা জমি কিনেছেন। পাশাপাশি নির্মাণ করেছেন ইটের নতুন বাড়ি। পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচও এই আয়ের মাধ্যমে চালাচ্ছেন তিনি।

আতাউরের তিন ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। মেঝো ছেলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বর্তমানে বাবাকে হাঁস পালনের কাজে সহযোগিতা করছেন। আর ছোট ছেলে সদ্য এসএসসি পাস করে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আতাউর রহমান বলেন, ‘সঠিক নিয়ম মেনে ও পরিশ্রম করে হাঁস পালন করলে ক্ষতির আশঙ্কা কম। এনজিও থেকে নেওয়া ৫০ হাজার টাকার ঋণই আমাকে শুরু করার সুযোগ করে দিয়েছিল। সেই ঋণই আজ আমাকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছে।’

স্থানীয়দের কাছে আতাউর রহমান এখন সফলতার উদাহরণ। তার সাফল্য এলাকার অনেক বেকার যুবককেও হাঁস পালনে আগ্রহী করে তুলছে। সীমিত পুঁজি নিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগের মাধ্যমে আতাউর রহমান নিজের পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করেছেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।