রাবি পরিবহন মার্কেটে উত্তেজনা, দর–কষাকষি থেকে হামলার অভিযোগ রাবি পরিবহন মার্কেটে হামলা । দর–কষাকষিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা) ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য পুরো মার্কেট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে বিষয়টি ছিল একেবারেই সাধারণ। হিমেল কম্পিউটার স্টেশনারী নামের একটি দোকানে ফটোকপির বিল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। দোকানি যেখানে ২৮০ টাকা দাবি করেন, সেখানে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল কাফি ২০০ টাকা দিতে চান। এই পার্থক্য থেকেই মূল বিরোধের সূত্রপাত। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য দোকানি পরবর্তীতে ২৫০ টাকায় সমাধানের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাতেও সমঝোতা না হওয়ায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে দোকানি কম্পিউটার বন্ধ করে দেন এবং দোকান বন্ধ করার ইঙ্গিত দেন। ঠিক তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় আবদুল্লাহ আল কাফি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন দোকানে প্রবেশ করে রাবি পরিবহন মার্কেটে হামলা চালান। তারা দোকানের শাটার নামিয়ে দেয় এবং চেয়ার-টেবিলসহ আশপাশে থাকা জিনিসপত্র ব্যবহার করে কর্মচারী ও দোকানিকে মারধর করে। রাবি পরিবহন মার্কেটে হামলার ঘটনা ঘটার সময় এতে উপস্থিত সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অনেকেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। দোকানি হিমেল বলেন, “আমি শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দোকান বন্ধ করার পর তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং আমাকে হুমকি দিয়ে মারধর করে।” তিনি জানান, হামলায় চার থেকে পাঁচজন জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল কাফি অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ফটোকপির দাম নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, উভয় পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল এবং একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এমন ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সচেতন মহলের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছোটখাটো বিরোধকে বড় সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার আগেই সমাধান করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্যাম্পাসে সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। SEE MORE>>> Post navigation শিবগঞ্জে পারিবারিক বিরোধে সংঘর্ষ , শান্ত করতে গিয়ে নারীর মৃত্যু নওগাঁর মান্দায় রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিএনপি নেতার নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা