রাজশাহী নার্সিং কলেজ শাটডাউন

রাজশাহী নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

রাজশাহী নার্সিং কলেজে হঠাৎ করেই চরম প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যার জের ধরে রাজশাহী নার্সিং কলেজ শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে ।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান অধ্যক্ষ নিয়োগ জটিলতা এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন।
এর ফলে কলেজের ক্লাস, পরীক্ষা এবং ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা একযোগে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে কলেজ প্রাঙ্গণে তালা ঝুলিয়ে দেন।
পরে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে কঠোর অবস্থানে গেছেন।
এর আগে গত শনিবার থেকেই শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
তারা অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো প্রজ্ঞাপন জারি না করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এদিন উপস্থিত হন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং অনুষদের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ব্রাইট লাইফ ভলান্টিয়ার্স’।

রাজশাহী নার্সিং কলেজ শাটডাউন ঘোষণাকে সংগঠনের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদসহ অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত থেকে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস ধরে কলেজে কোনো অধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে।
এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানিয়ে বলেন, বিষয়টি বারবার ঝুলিয়ে রাখা রহস্যজনক এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এদিকে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য নার্সিং কলেজে ইতোমধ্যে অধ্যক্ষ নিয়োগ সম্পন্ন হলেও রাজশাহী নার্সিং কলেজে এখনো কোনো পদায়ন হয়নি।
এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে এবং তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব এবং কিছু জটিলতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
পূর্ববর্তী অধ্যক্ষ অবসরের সময় কোনো ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব না দিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
এরপর একাধিক শিক্ষক আগ্রহ দেখালেও এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম) থেকেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না আসায় পুরো পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
এর ফলে রাজশাহী নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট আরও গভীর হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি কার্যত এখন সম্পূর্ণ কমপ্লিট শাটডাউন অবস্থায় রয়েছে।

By Borsha