শ্রমিকদের ব্যতিক্রমী আয়োজন

সাহেব বাজারে শ্রমিক দিবসে ব্যতিক্রমী আয়োজন, জীবনসংগ্রাম ও অধিকার নিয়ে সরব শ্রমজীবীরা

মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর সাহেব বাজার এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল শ্রমিকদের ব্যতিক্রমী আয়োজন এর আমেজ।
নগরীর ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝেও সেখানে জড়ো হন বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ।
কেউ দোকান বন্ধ রেখে, কেউ দিনের কাজের ফাঁকে সময় বের করে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ফলে পুরো এলাকা সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত শ্রমজীবী মানুষরা তাদের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।
অথচ সেই তুলনায় আয় বাড়েনি। ফলে পরিবার চালাতে গিয়ে অনেক শ্রমিককে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শ্রমিকরা আরও জানান, অনেক কর্মক্ষেত্রে এখনো নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। অনেকেই নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে কাজ করলেও পান না যথাযথ পারিশ্রমিক।
সামাজিক নিরাপত্তার অভাবও তাদের বড় উদ্বেগের কারণ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ফল।
কিন্তু বাস্তবতা হলো এখনো দেশের অনেক শ্রমজীবী মানুষ ন্যায্য মজুরি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত।
তারা শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

শ্রমিকদের ব্যতিক্রমী আয়োজন,বসুন্ধরা শুভসংঘ নেতৃবৃন্দের সংহতি প্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী সাহেব বাজার পেশাজীবী সমিতির সভাপতি মো. শাহিনুর রহমান মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মো. পারভেজ।
তারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ রাজশাহী জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা সভাপতি মো. জুলফিকার আলী হায়দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুজ্জামান সবুজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ সাজিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহানা সুলতানা প্রিয়া এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আকাশ মজুমদারসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন বিনোদনমূলক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
এতে অংশ নিয়ে শ্রমিকরা কিছু সময়ের জন্য কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে আনন্দে মেতে ওঠেন।
হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, শ্রমিকদের মানসিক প্রশান্তি এবং অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করা হয়েছে।
সবশেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

By Borsha