রাজশাহীর সরকারি বিদ্যালয়ে ব্যাপক ফেল, ফলাফল ও কোচিং বাণিজ্য নিয়ে বিতর্ক একটি সরকারি বিদ্যালয়ে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, কোচিং না করায় রাজশাহী স্কুলে গণহারে ফেল করে দেওয়াই চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! সাম্প্রতিক এই ফলাফল প্রকাশের পর অনেক অভিভাবকই বিস্মিত হয়ে পড়েন, কারণ তাদের দাবি—এমন খারাপ ফল তাদের সন্তানরা আগে কখনো করেনি। প্রাথমিকভাবে অনেকেই বিষয়টি স্বাভাবিক ফলাফল হিসেবে মেনে নিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসতে থাকে ভিন্ন চিত্র। একাধিক অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানদের এক থেকে তিনটি বিষয়ে ফেল দেখানো হয়েছে, যা তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষাগত পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে করে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন এসব শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে আগের শ্রেণিতেই থেকে যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ বিকল্প না পেয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেছে বলে জানা গেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তারা জানান, পুনর্মূল্যায়ন বা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আবেদন করলেও তা গুরুত্ব পায়নি। এমনকি শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ থাকার পরও বিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজশাহী স্কুলে গণহারে ফেল করে দেওয়াই অভিভাবকদের বক্তব্য একজন অভিভাবক বলেন,তার সন্তান অসুস্থতার কারণে কিছুটা খারাপ করলেও নম্বরের পার্থক্য খুব বেশি ছিল না, তারপরও তাকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়নি। অন্য একজন অভিযোগ করেন, তার সন্তানকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, নির্ধারিত নিয়ম অনুসারেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে এবং কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফেল করানো হয়নি। প্রধান শিক্ষিকাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি সহকারী প্রধান শিক্ষকের ওপর ন্যস্ত করেছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি এসেছে কোচিং বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক স্কুলের বাইরে ব্যক্তিগত কোচিং পরিচালনা করেন। যারা তাদের কাছে কোচিং নেয়, তাদের পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়া হয়—আর যারা নেয় না, তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা হয়। ২০২৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অন্তত ১৩৫ শিক্ষার্থীকে একাধিক বিষয়ে ফেল দেখানোর পেছনে এই অনিয়ম কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। SEE MORE>>> Post navigation নাটোরে তেল না পেয়ে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধের পর গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ নাটোরে ভোরের হত্যাকাণ্ড: চটপটি বিক্রেতা মহরম আলী খুন, গ্রেপ্তার ছেলে