ফেন্সিডিলসহ নেতা গ্রেফতার

রংপুরে ফেন্সিডিলসহ ধরা পড়লেন রাজনৈতিক নেতা, রেলস্টেশনেই ছিল পাচারের পরিকল্পনা

রংপুর মহানগরীতে ফেন্সিডিলসহ নেতা গ্রেফতার ,মাদকের একটি বড় চালানসহ স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি বিশেষ দল নগরীর খাসবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাজেদুল ইসলাম শোয়েব (৩৭) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করে।
গ্রেফতারকৃত শোয়েব রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ খাসবাগ এলাকার মৃত আমানত উল্লাহ ভুইয়ার ছেলে এবং তিনি স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।
তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে একটি ব্যাগে রাখা ৭২ বোতল কোডেন ফসফেটযুক্ত নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সাজেদুল ইসলাম শোয়েব স্বেচ্ছাসেবক দল-এর রংপুর মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ ঘটনায় গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, মাদকের এই চালানটি দুই দিন আগে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী এলাকা থেকে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার কাছে পৌঁছে দেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার রাতে এসব ফেন্সিডিল রংপুর রেলস্টেশনে নিয়ে গিয়ে ঢাকাগামী ট্রেনে অন্য একজনের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল।

ফেন্সিডিলসহ নেতা গ্রেফতার, ভেস্তে গেল পরিকল্পনা

রেলস্টেশনকেন্দ্রিক পাচারচক্রের পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। তবে তার আগেই গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তিনি ধরা পড়েন।
ফেন্সিডিলসহ নেতা গ্রেফতার  রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
শোয়েবের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গ্রেফতারের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার বড় ধাক্কা লাগে। শনিবার রাতেই জরুরি সভা করে তাকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক বিজ্ঞপ্তিতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকেই বলছেন, এই ধরনের গ্রেফতার মাদকবিরোধী অভিযানে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই মাদক চক্রের মূল উৎস কোথায় এবং ঢাকায় কার কাছে এটি পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল।
তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের শিকড় আরও বিস্তৃত হতে পারে। খাসবাগ থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত এই পুরো মিশন এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।
রংপুরে মাদক চক্র দমনে এই অভিযানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

By Borsha