নওগাঁর রাণীনগরে গণছিনতাইয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন লুট

রাণীনগরে গণছিনতাই, মুখোশধারীদের হামলায় আহত ৪

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর রাণীনগরে গণছিনতাই, সড়কে একের পর এক পথচারীকে থামিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার বেলঘড়িয়া-বিলকৃষ্ণপুর সড়কের বেলঘড়িয়া ইসলামের ভিটা এলাকায় মুখোশধারী ছিনতাইকারীরা পথচারীদের ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

ছিনতাইকারীরা প্রায় আটজনের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং আটটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের প্রথমে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত ইউসুফ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাণীনগরের ইসলামের ভিটা এলাকায় মুখোশধারীদের ছিনতাইয়ের ঘটনা

মোটরসাইকেল পড়ে থাকার ফাঁদে থামিয়ে রাণীনগরে গণছিনতাই

ছিনতাইয়ের শিকার বানিয়াপাড়া গ্রামের সুজন হোসেন জানান, তিনি তাঁর বন্ধু বিলপালশা গ্রামের শামীম হোসেন, বাশার আহম্মেদ ও বানিয়াপাড়া গ্রামের আজাহার আলীকে নিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে আবাদপুকুর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।

বেলঘড়িয়া গ্রামের উত্তরে ইসলামের ভিটা এলাকায় পৌঁছালে তাঁরা সড়কের পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখেন। সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে মনে করে মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দিলে হাফপ্যান্ট ও মুখোশ পরা চার ব্যক্তি তাঁদের পথরোধ করেন।

তাঁদের হাতে ধারালো ছুরি ও লোহার রড ছিল বলে জানান সুজন। পরে ছিনতাইকারীরা চারজনকে মারধর করে সড়কের পাশে বসিয়ে রাখে। এরপর তাঁদের কাছে থাকা টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ সময় হাসুয়ার পিঠ দিয়ে আঘাত করায় শামীম আহত হন।

সুজনের দাবি, ওই স্থানে ছিনতাইকারীরা আরও কয়েকজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল।

রাজাপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে ফয়সাল আহম্মেদ জানান, তিনি একই গ্রামের দুই বন্ধু তৌহিদ ও ইউসুফ হোসেনকে নিয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে বিলকৃষ্ণপুর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন।

ইসলামের ভিটা এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা চলন্ত মোটরসাইকেলে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। এতে তাঁরা মোটরসাইকেলসহ সড়কের পাশে পড়ে যান। এতে মোটরসাইকেলটির সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি, ধামইরহাটে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পরে ছিনতাইকারীরা হাসুয়া ও লোহার রড দিয়ে তাঁদের মারধর করে টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর একই সড়ক দিয়ে আরেকটি মোটরসাইকেল আসলে সেটিও থামিয়ে চালকের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নেওয়া হয়।

ফয়সাল জানান, ছিনতাইকারীরা চলে যেতে বলার পর তিনি একটি মোটরসাইকেলে করে গ্রামের দিকে গিয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর বন্ধুদের উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ফয়সাল ও তৌহিদ চিকিৎসা নিয়ে সকালে বাড়ি ফিরেছেন। তবে ইউসুফের হাত ভেঙে যাওয়াসহ গুরুতর জখম হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, ছিনতাইকারীরা প্রায় আটজনের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং আটটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাতে থানায় মামলা করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 রাণীনগরে গণছিনতাইয়ের ঘটনার পর ওই সড়কে চলাচলকারী স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই এলাকায় একাধিক ব্যক্তির পথরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চালাচ্ছে।