রাণীনগরে ভটভটি দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত, আহত ৭—নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কুনৌজ বাজার এলাকায় শনিবার সকালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ভটভটি উল্টে শ্রমিক নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দিনের শুরুটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। স্থানীয়রা যার যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন—কেউ বাজারে, কেউবা কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতিতে। তবে হঠাৎই সেই স্বাভাবিক পরিবেশে নেমে আসে আতঙ্ক। জানা যায়, সকালবেলায় কয়েকজন গৃহনির্মাণ শ্রমিক একসঙ্গে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ভটভটিতে করে রওনা দেন। পথিমধ্যে হঠাৎই যানবাহনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে যায় এবং পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। স্থানীয়দের তৎপরতায় আহতদের দ্রুত রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফিরোজ হোসেন জানান, মোট আটজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভটভটি উল্টে শ্রমিক নিহত ও আহত ৭ জনের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বর্তমানে দুইজন রাণীনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিন্টু আহম্মেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভটভটিটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দ্রুত সহায়তার ফলে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে জানা যায়, এই দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের নাম জামিনা বেগম (৩০)। তিনি একজন গৃহনির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। আহত সাতজনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সব মিলিয়ে, রাণীনগরের এই সড়ক দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে গ্রামীণ সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। SEE MORE>>> Post navigation লোডশেডিংয়ে বাড়ছে চাহিদা, মহাদেবপুরে তালপাতার পাখায় ব্যস্ত ‘পাখা গ্রাম’ নওগাঁয় ৫ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ