সাপাহারে লাইলী বেগমের সংগ্রাম

সাপাহারে লাইলী বেগমের সংগ্রাম, উঠানের সবজি বিক্রিতে চলে চারজনের সংসার

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর সাপাহারে লাইলী বেগমের সংগ্রাম যেন থামছেই না। ৫০ বছর বয়সী এই নারী বাড়ির উঠানে চাষ করা শাক-সবজি বাজারে বিক্রি করে চালান চার সদস্যের সংসার। খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যদিনের খরচ—সবকিছুর দায়িত্বই এখন তাঁর কাঁধে।

সাপাহার উপজেলার গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের লাইলী বেগমের স্বামী থেকেও যেন নেই। কোনো ছেলে সন্তানও নেই তাঁর। দুই মেয়ের মধ্যে এক মেয়ের বিয়ে হলেও তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে আবার মায়ের কাছে ফিরে এসেছেন। ফলে মেয়ে ও দুই নাতি-নাতনিসহ চারজনের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি লাইলী।

সাপাহারের লাইলী বেগমের সংগ্রামী জীবনের গল্প

সাপাহারে লাইলী বেগমের সংগ্রাম, চারজনের সংসারের একমাত্র ভরসা , সহায়তার অপেক্ষায়

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা সদরের কাঁচাবাজারে অল্প কিছু কচুর মোচা নিয়ে বসেছিলেন তিনি। বাজারে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। কখনো ফুটপাতে, কখনো দোকানের সামনে বসেই বিক্রি করতে হয় উঠানে চাষ করা সবজি।

লাইলী বেগম বলেন, সংসারে আয় করার মতো আর কেউ নেই। বাড়ির উঠানের অল্প জায়গায় শাক-সবজি চাষ করেন। সেগুলো বাজারে বিক্রি করেই সংসার চালাতে হয়। কিন্তু বাজারে এসেও নির্দিষ্ট জায়গায় বসার সুযোগ পান না।

সংসার চালানোর পাশাপাশি বন বিভাগের সঙ্গে চলমান একাধিক মামলার খরচও বহন করতে হচ্ছে তাঁকে। ফলে প্রতিদিনই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাঁর।

আরও পড়ুন

মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিফ চন্দ্র দত্তকে কুপিয়ে হত্যা, স্বর্ণ-টাকা ছিনতাই

লাইলী বলেন, সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সহযোগিতা পাননি। একটি ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হলে সংসার চালাতে কিছুটা সুবিধা হতো বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, লাইলীকে শুধু আর্থিক সহায়তা দিলেই হবে না। তাঁর সবজি চাষ সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা কিংবা কোনো স্বাবলম্বী কর্মসূচির আওতায় আনা গেলে তিনি নিজের পরিশ্রমেই সংসারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে নিতে পারবেন।

পাশাপাশি তাঁর জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজ বলেন, লাইলী বেগমের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

প্রতিদিনের ছোট্ট উঠান আর কয়েক আঁটি সবজিই এখন লাইলী বেগমের পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। বয়স বাড়লেও সংসারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই তাঁর। তাই সহায়তার পাশাপাশি নিজের শ্রমের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ চান এই সংগ্রামী নারী।