বাংলাদেশে হাম শিশু মৃত্যু এবং সংক্রামক রোগে বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে । চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চলতি মাসেই ৩২ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬ জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন এবং রাজশাহী ও পাবনায় ১ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালসহ অন্যান্য জেলার তথ্য যুক্ত করলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৬ ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংক্রমণের চিত্রও ভয়াবহ। মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এ বছর ৫৬০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যেখানে গত বছর পুরো বছরে ছিল মাত্র ৬৯ জন। চলতি মাসের মাত্র ২৯ দিনেই ৪৪৮ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ জন এবং নোয়াখালীতে ৩০০-এর বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে ঘাটতির কারণেই হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণে অনীহা এবং কিছু গোষ্ঠীর টিকা না নেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশে হাম শিশু মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াও সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে টিকার মজুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং মাঠপর্যায়ে মাত্র এক মাসের সরবরাহ রয়েছে। তবে আশার খবর হলো, বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় টিকা ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। সরকার শিগগিরই একটি বড় আকারের টিকাদান ক্যাম্পেইন চালুর পরিকল্পনা করছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকরা বলছেন, হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই; রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট এবং পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের প্রাদুর্ভাবে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মায়েদের টিকা না থাকা বা শিশুদের সময়মতো টিকা না দেওয়ার কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, হামের বিস্তার রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। SEE MORE>>>https://ngnnews24.com/naogaon-motorcycle-market-sales-drop-fuel-crisis/ Post navigation নওগাঁর মোটরসাইকেল বাজারে ধস, তেল সংকটে বিক্রি প্রায় শূন্য রাজশাহীতে অ্যাপোলো ইনফরমেশন সেন্টারের উদ্বোধন, রোগীদের জন্য সহজ চিকিৎসা সেবার নতুন দিগন্ত