নওগাঁ অ্যাপভিত্তিক তেল বিক্রিতারেক রহমান ও মান্নার ছবিতে তোলপাড়, কী হয়েছিল সেদিন? - 1

নওগাঁয় অ্যাপভিত্তিক তেল বিক্রি শুরু, পাম্পে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি তবে ভোগান্তি কমার আশা

নওগাঁ অ্যাপভিত্তিক তেল বিক্রি, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে
ফুয়েল কার্ড চালুর পর এবার অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির নতুন পদ্ধতি চালু হওয়ায় গ্রাহকদের অভিজ্ঞতায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন।
রোববার দুপুরের পর থেকেই সদর উপজেলার কয়েকটি পেট্রলপাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন এক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুক্তির মোড়সহ শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন।
তীব্র রোদে অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক চালকই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
আগে যেখানে শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া যেত, এখন সেখানে অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করতে হচ্ছে, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে ধীরগতির করে তুলছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, নতুন ব্যবস্থায় তেল নেওয়ার সময় গাড়ির নিবন্ধন তথ্য, মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হচ্ছে।
এতে করে প্রতিটি গ্রাহকের জন্য সময় বেশি লাগছে এবং লাইনে অপেক্ষার সময়ও বাড়ছে।
বিশেষ করে যারা জরুরি কাজে বের হন, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে।
তবে ইতিবাচক দিকও দেখছেন অনেকেই। কিছু গ্রাহক মনে করছেন, এই নতুন পদ্ধতির ফলে তেলের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা কমে আসবে।
 আগে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করতেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করত।

অ্যাপভিত্তিক তেল বিক্রি শুরু হওয়ায় এখন অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব সংরক্ষণ হচ্ছে যার ফলে এ ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাম্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নতুন নিয়মে কাজ করতে গিয়ে প্রথম দিকে কিছুটা সময় বেশি লাগছে।
তবে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হয়ে উঠবে।
তারা আশা করছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহকরা এই ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রতিটি পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে কার্যক্রম মনিটর করছেন, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
প্রয়োজনে এই ব্যবস্থায় আরও উন্নয়ন আনা হবে বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে নওগাঁ সদর উপজেলার ১১টি পেট্রলপাম্পে এই অ্যাপভিত্তিক তেল বিক্রি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এটি জেলার সব ফিলিং স্টেশনে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করলেও, শুরুতে কিছুটা ভোগান্তি থাকাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

By Borsha