রাজশাহীতে হামের প্রাদুর্ভাব,অসুস্থতার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে রাজশাহীতে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের মধ্যে অসুস্থতার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! গত কয়েক দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে শিশু ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, তবে একই সময়ে ৩২ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসকদের মতে, যেসব শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা দ্রুত বাড়ছে। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানিয়েছেন, “আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছি। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনই আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” হাসপাতাল প্রশাসন জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৪২৯ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং এর মধ্যে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজশাহীতে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ১৮টি আইসিইউ বেড, তিনটি সাধারণ ওয়ার্ড এবং একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত চাপ সামলেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে, বেসরকারি পর্যায়েও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ থেকে বাঁচতে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই অভিভাবকদের উচিত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার প্রদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করেছেন যে, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ শিশু সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তবে দেরি হলে জটিলতা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সবশেষে বলা যায়, রাজশাহীতে হামের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত টিকাদান, সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই হতে পারে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রধান উপায়। SEE MORE>>> Post navigation রাজধানীতে মুরগির দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন, কেজিতে ৪৩০ টাকা ছুঁইছুঁই রাজশাহীতে ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার শাহিনুর ইসলাম