হামের টিকা কর্মসূচি

লক্ষ্মীপুরে ২.৭ লাখ শিশুকে হাম টিকার আওতায় আনার বৃহৎ স্বাস্থ্য অভিযান শুরু

অবশেষে শুরু হলো বৃহৎ আকারে হামের টিকা কর্মসূচি ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে এক ধরনের নীরব উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

বিশেষ করে বছরের শুরু থেকে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীদের ভিড় এবং তাদের শরীরে হামের মতো উপসর্গ দেখা যাওয়ায় চিকিৎসকরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোট ১৯৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

এর মধ্যে পরীক্ষায় ৫ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে ৪৭ জন শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

যদিও অনেক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, তবুও এই রোগের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বড় পরিসরের হামের টিকা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৪২ জন শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই উদ্যোগকে শিশুদের জীবন সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেলার মধ্যে সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৯৭,৩২৪ জন শিশু এই টিকার আওতায় আসবে।

এছাড়া রায়পুরে ৩৮,৬৫২ জন, রামগঞ্জে ৪৫,০৩৮ জন, কমলনগরে ৩৪,৮০০ জন, রামগতিতে ৪১,৫০৫ জন এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ১৭,৩২৩ জন শিশুকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মূলত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকা প্রদান করা হবে।

এই বিশাল কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শাহীনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

পুরো জেলায় মোট ১,৫৮৪টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

এসব কেন্দ্রে কাজ করবেন ১৮৩ জন সুপারভাইজার, ২০০ জন প্রশিক্ষিত টিকাদান কর্মী এবং ৪০০ জন স্বেচ্ছাসেবক।

আগামী সোমবার, ২০ এপ্রিল থেকে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে এবং এটি টানা ১১ কার্যদিবস চলবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা সময়মতো প্রতিরোধ না করলে শিশুদের শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নির্ধারিত সময়ে শিশুদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

তার মতে, এই কর্মসূচি শুধু একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প নয়, বরং লক্ষ্মীপুরের শিশুদের জন্য একটি গণসুরক্ষা অভিযান।

বিশেষজ্ঞদের আশা, এই বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জেলাকে হামমুক্ত করার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

SEE MORE>>>

By Borsha