মিরসরাইয়ে সালিশ চলাকালে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, এলাকায় উত্তেজনা চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সালিশ বৈঠকে হত্যা করে খৈয়াছরা ইউনিয়নে এই ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে মধ্যম আমবাড়ীয়া গ্রামে স্থানীয় বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে গ্রাম সর্দারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একত্রিত হন। ঠিক সেই সময় অতর্কিত হামলায় নিহত হন নুর বকসের ছেলে শফিউল আলম। এই হামলায় শুধু শফিউল আলমই নিহত হননি, বরং তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন নিহতের বড় ভাই নুর আলম, ছেলে সিফাত, ভাতিজা ফকির আহম্মদ এবং গ্রাম সর্দার আজিম উদ্দিন। দিনের আলোতে এমন বর্বরোচিত হামলা স্থানীয়দের হতবাক করে দেয়। ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম রিংকু এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। তিনি ওই এলাকারই মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মিরসরাই থানা পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে আরাফাত হোসেন সিফাত বাদী হয়ে রিংকুকে প্রধান আসামি করে মোট তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের খুঁজতে থাকে। মিরসরাইয়ে সালিশ বৈঠকে হত্যা ঘটনায় রিংকুর অবস্থান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিংকুর অবস্থান চিহ্নিত করা হয় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোররাতে মিরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক সাইদুল ইসলাম রিংকুকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর তাকে আটক করা সম্ভব হয়। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ক্ষোভ এখনো বিরাজ করছে। গ্রেপ্তারের পর রিংকুকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি দুই আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় নিহত শফিউল আলমের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। পরিবারের দাবি, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয়দের মতে, সালিশ বৈঠকের মতো শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এমন হামলা সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। মিরসরাইয়ের এই ঘটনা এখন শুধু একটি স্থানীয় বিরোধ নয়, বরং দ্রুত বিচার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সবার নজর পুলিশের তদন্ত ও বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দিকে। SEE MORE>>> Post navigation হাজীগঞ্জে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ১৯৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, রহস্য ঘনীভূত লক্ষ্মীপুরে ২.৭ লাখ শিশুকে হামের টিকা, বড় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি শুরু