একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা, রক্তের দাগ ও হুমকিমূলক বার্তা ঘিরে রহস্য ঘনীভূত

নওগাঁ জেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, ফজরের নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন এক বৃদ্ধ বাবা।
প্রতিদিনের মতো ছেলের ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। এতে তার মনে সন্দেহ জাগে।
কাঁপতে কাঁপতে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই তিনি দেখেন, ঘরের ভেতরে চারজনের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে।
এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি আগের দিন হাট থেকে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরেছিলেন এবং তার কাছে নগদ অর্থ ছিল।
ঘটনার পর সেই অর্থ ও ঘরের স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়নি, যা ডাকাতির সম্ভাবনাকেও সামনে আনছে।

একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এ বিষয়ে একাধিকবার থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা হয়েছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলের দেয়ালে লেখা একটি হুমকিমূলক বার্তা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন জানান, দেয়ালে লেখা ছিল—‘নমির তুই বেঁচে গেলি, দলিল দে।
এবার তোর পালা।’ এই বার্তাকে ঘিরে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) এবং মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।
হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় এবং শিশুদের মাথায় আঘাতের চিহ্নসহ উদ্ধার করা হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সবশেষে বলা যায়, নওগাঁর এই চারজন হত্যাকাণ্ড দেশের সাম্প্রতিক সময়ের একটি আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে, যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

By Borsha