ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত নারী নিহত

রাজশাহীর দাসপুকুরে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত নারী নিহত

রাজশাহী নগরীর দাসপুকুর এলাকায় শনিবার রাতে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত নারী নিহত ।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। শব্দ শোনার পর অনেকেই দ্রুত রেললাইনের পাশে ছুটে যান।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় এবং চারদিকে শুরু হয় নানা আলোচনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে কেউই বুঝতে পারেননি কী ঘটেছে। পরে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে এক নারী গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন।
স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রহনপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন রাজশাহী নগরীর দাসপুকুর এলাকায় পৌঁছালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রেনটি অতিক্রম করার সময় রেললাইনের পাশে অবস্থান করা এক নারী ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন।
ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে ওই নারী ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হলেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত নারী নিহত, নারীর পরিচয় শনাক্তে চলছে পুলিশের কার্যক্রম।

তিনি অসাবধানতাবশত রেললাইনের খুব কাছে ছিলেন নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—সেটি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যেও কিছুটা ভিন্নতা থাকায় ঘটনাটিকে ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই রাজশাহী রেলওয়ে থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সেখানে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হবে।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, রেললাইনের আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রেললাইন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হলে দুর্ঘটনার হার কমানো সম্ভব হতে পারে।
একই সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
রেললাইন পারাপারের নির্দিষ্ট নিয়ম ও সতর্কতা সম্পর্কে জনগণকে আরও বেশি সচেতন করতে হবে বলেও মত দিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

By Borsha