ভুয়া মেডিকেল নথি দিয়ে মামলাRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

রাজশাহীতে ভুয়া মেডিকেল নথি ব্যবহার করে মামলা, তদন্তে প্রশাসন

রাজশাহীতে ভুয়া মেডিকেল নথি দিয়ে মামলা কে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া মেডিকেল নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় এসেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেকর্ড যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্যে ঘটনাটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ভুয়া মেডিকেল নথি ব্যবহার করে মামলা সাজানো হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজশাহী শিরোইল কলোনী হাজরাপুকুর এলাকার মো. আতাউর রহমান খন্দকারের ছেলে মো. ফয়সাল খন্দকার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় যুবদল নেতা রবি সহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২ নভেম্বর বিকেলে হাজরাপুকুর এলাকায় ফয়সালের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং পরে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
তবে পরবর্তীতে হাসপাতালের রেকর্ড যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি ধরা পড়ে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমসি শাখা থেকে জানানো হয়, ওই সময়কালে ফয়সাল খন্দকার নামে কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন না।

ভুয়া মেডিকেল নথি দিয়ে মামলা, ছাড়পত্র ও হাসপাতালের মূল রেকর্ডে মিল না পাওয়ার অভিযোগ

এছাড়া আদালতে জমা দেওয়া মেডিকেল ছাড়পত্রের সঙ্গে হাসপাতালের মূল রেকর্ডের মিল পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নথিতে যে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি দেখানো হয়েছে, সেটি মূলত নারী ও শিশুদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ড।
ফলে সেখানে পুরুষ রোগীর ভর্তি থাকার বিষয়টি অসংগতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
চিকিৎসক ডা. আলমগীর হোসেন জানান, তিনি ওই নামে কোনো মেডিকেল ছাড়পত্র প্রদান করেননি এবং নথিতে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ও সিলও সঠিক নয় বলে দাবি করেন।
তদন্ত চলাকালে ফয়সাল খন্দকারকে প্রয়োজনীয় আসল নথি জমা দিতে বলা হলেও তিনি কোনো বৈধ হাসপাতাল রেকর্ড উপস্থাপন করতে পারেননি।
বরং একটি বেসরকারি ক্লিনিকের পুরোনো এক্স-রে রিপোর্ট দেখান, যার তারিখ ঘটনার সময়ের আগের। পরে তিনি স্থান ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
চন্দ্রিমা থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি পাঠিয়ে নথির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্তে যদি ভুয়া নথির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে মামলায় যুবদল নেতা রবি কারাগারে রয়েছেন এবং অন্যান্য কয়েকজন জামিনে আছেন।
ঘটনাটি নিয়ে রাজশাহী মহানগরীতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আদালতে ভুয়া নথি ব্যবহার করে মামলা দায়েরের ঘটনা বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
তাই সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

By Borsha