গাবতলী খাল খনন প্রকল্প

বগুড়ার গাবতলীতে খাল খনন প্রকল্পের শ্রমিক তালিকায় চেয়ারম্যান-মেম্বার-শিক্ষক-প্রবাসীর নাম

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন গাবতলী খাল খনন প্রকল্প ঘিরে শ্রমিক তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া ইজিপিপি প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য, স্কুলশিক্ষক, প্রবাসী ও চাকরিজীবীদের নাম শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায়

সোনারায় ইউনিয়নের খুপি হাড়িভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আটবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প পর্যন্ত খাল পুনঃখননের কাজ হাতে নেওয়া হয়।

গত ৫ মে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের শ্রমিক তালিকায় মোট ২৯৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাল খননের বেশিরভাগ কাজই খননকারী যন্ত্র দিয়ে করা হচ্ছে।

হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক কোদাল দিয়ে খালের পাড় সংস্কারের কাজ করছেন।

স্থানীয় শ্রমিকদের ভাষ্য, উদ্বোধনের দিন প্রায় ১৫০ জন উপস্থিত থাকলেও পরদিন থেকেই শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত কমে যায়।

বর্তমানে নিয়মিত কাজ করছেন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ জন। অথচ সরকারি তালিকায় শ্রমিকের সংখ্যা ২৯৭ জন উল্লেখ রয়েছে।

এ কারণে তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শ্রমিক তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে, যারা প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজই করেননি।

তালিকায় গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়িয়া গ্রামের এক মালয়েশিয়াপ্রবাসীর নাম পাওয়া গেছে।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য, ওই সদস্যের ছেলে, একজন স্কুলশিক্ষক এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির নামও শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডলের নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গাবতলী খাল খনন প্রকল্প ঘিরে অনিয়ম ,অভিযোগ স্বীকার করে তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের ছেলে ও স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলাম আকন্দ বলেন, এই খাল খনন প্রকল্পে দুজন ‘ভিআইপি শ্রমিক’ রয়েছেন, যার মধ্যে তিনি নিজেও একজন।

তার এমন মন্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সোনারায় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডল বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিক তালিকা জমা দেওয়ার তাগিদ থাকায় হিসাব সহকারী তড়িঘড়ি করে তালিকা তৈরি করেছিলেন।

সে সময় ভুলবশত চেয়ারম্যান, সদস্য, শিক্ষক ও প্রবাসীদের নাম যুক্ত হয়েছিল।

অভিযোগ ওঠার পর তালিকা সংশোধন করা হয়েছে এবং তার নিজের নাম বাদ দিয়ে অন্য একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বর্তমানে খাল পুনঃখননের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রকল্পের কাজ আবারও শুরু হবে।

এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মজিদুল ইসলাম শ্রমিক তালিকায় চেয়ারম্যান, সদস্য, প্রবাসী ও স্কুলশিক্ষকের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, গত ২০ জুন থেকে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছিল।

তবে অর্থবছর শেষ হওয়ায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন বরাদ্দ পেলে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হবে।

অন্যদিকে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিক তালিকায় এ ধরনের অনিয়ম হওয়ার কথা নয়।

এখনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা তার হাতে পৌঁছায়নি এবং প্রকল্পের কোনো বিলও পরিশোধ করা হয়নি।

তালিকা যাচাইয়ের পর অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।

প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।