বগুড়ায় হত্যা মামলার আসামির আত্মহত্যা

বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির আত্মহত্যা

ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির আত্মহত্যা নিয়ে বগুড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) নামে এক আসামি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকাকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৯ জুলাই) সকালে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানার বাথরুমে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আসাদ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার একজন আসামি ছিলেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দি উপজেলার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার (১৮ জুলাই) বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য দুই অভিযুক্তকে ধরতে নওগাঁয় অভিযানও চালানো হয়, তবে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে আত্মহত্যার ঘটনায় ডিবি কার্যালয়ের সামনে

আদালতে নেওয়ার আগে হাজতখানায় হত্যা মামলার আসামির আত্মহত্যা, তদন্তের কথা জানাল পুলিশ

ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর আগে সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় বের না হওয়ায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সকালে নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন এবং পরে বাথরুমে প্রবেশ করেন। এরপর তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং নিহতের মোবাইল ফোনও তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আদালতে হাজির করার আগেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ঘিরে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এদিকে নিহত আসাদের বাবা মতি মুন্সি, যিনি একজন মাদ্রাসাশিক্ষক, জানান যে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যুর খবর পরে তারা জানতে পারেন।

১৮ জুলাই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নবীনবরণ