নওগাঁর ধামইরহাটে গৃহবধূ হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

ধামইরহাটে মেরিনা বেগম হত্যা মামলায় ১২ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর ধামইরহাটে মোছা. মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রেমের সম্পর্ক বিয়ের জন্য চাপ,অতঃপর আম বাগানে ডেকে নিয়ে..

ধামইরহাটে গৃহবধূ হত্যার এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ধামইরহাটে গৃহবধূ হত্যা করে মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন ধামইরহাট উপজেলার মড়লই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) ও একই গ্রামের মো. তারেক রহমান (২১)। পুলিশের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন জড়িত। বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ধামইরহাটে গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত

পুলিশ জানায়, নিহত মেরিনা বেগম ধামইরহাট উপজেলার খেলনা গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ‘গরুর জন্য ঘাস কাটতে যাচ্ছি’ বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

১৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধামইরহাট থানার ২ নম্বর আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের ভালকাডাঙ্গা এলাকার একটি আমবাগানে আগুনে পোড়া এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একই সময়ে মেরিনার ছেলে কাউসার আলী মায়ের নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আসেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি তার মায়ের বলে শনাক্ত করেন।

আরও পড়ুন

মহাদেবপুরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত: ২ সপ্তাহ পর মৃত্যু

ঘটনাটি ক্লুলেস হওয়ায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং স্থানীয়ভাবে তদন্ত শুরু করে। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে প্রথমে বাবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে একটি বেল্ট ও নিহতের জুতার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহত মেরিনা বেগমের সঙ্গে গ্রেপ্তার বাবুল হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় গত ১৬ আগস্ট রাতে পরিকল্পনা করে মেরিনাকে সাহাপুর বাজার থেকে আগ্রাদ্বিগুনে ডেকে আনা হয় বলে পুলিশের দাবি।

পরে তাকে একটি আমবাগানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারেক রহমানের বেল্ট দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মেরিনাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যার পর আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি। পরে নিহতের কাছ থেকে নেওয়া টাকা চারজন মিলে ভাগ করে নেয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নৃশংস এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে এবং দুইজন হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। নওগাঁ জেলায় যেকোনো ধরনের অপরাধ আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে দমন করা হবে। অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ধামইরহাটে গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।