ধামইরহাটে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, বাড়তি ভাড়ায় রোগী

ধামইরহাটে দীর্ঘদিন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর ধামইরহাটে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে। সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত চালক না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অধীনে থাকা একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী পরিবহন সেবা দিতে পারছে না। এতে জরুরি প্রয়োজনে রোগী স্থানান্তরের সময় বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে স্বজনদের।

রোগীর কয়েকজন স্বজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত চালকের শূন্যতাকে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটির চালক হিসেবে আগে দায়িত্ব পালন করতেন মনোয়ার হোসেন। রোগীর স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই বেপরোয়াভাবে অ্যাম্বুলেন্স চালাতেন। তাঁদের দাবি, তিনি নেশায় আসক্ত ছিলেন এবং তাঁর সময় অ্যাম্বুলেন্সটি কয়েকবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

এ ধরনের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তার কারণে কর্তৃপক্ষ মনোয়ার হোসেনকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করে বলে জানা গেছে। এরপর থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটির সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

ধামইরহাটে চালক সংকটে বন্ধ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

ধামইরহাটে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, দরিদ্র রোগীর স্বজনদের বাড়তি চাপ

ধামইরহাটে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে রোগী স্থানান্তরের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্বজনদের। এতে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর কিংবা বিভাগীয় সদরের হাসপাতালে পাঠানো হয়। পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব ধামইরহাট থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার।

এই ২০ কিলোমিটার দূরত্বে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহনের জন্য ভাড়া দিতে হয় ৭০০ টাকা। কিন্তু একই দূরত্বে ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করলে প্রায় ২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।

ফলে সামর্থ্যবান রোগীর স্বজনেরা বাড়তি ভাড়া পরিশোধ করতে পারলেও দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জরুরি সময়ে রোগী স্থানান্তরের প্রয়োজন হলেও বেশি ভাড়ার কারণে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স মালিক মিলন হোসেন বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে বলেন, তাঁদের গ্যাস ও অন্যান্য খরচ বেশি। এ কারণে ওই ভাড়া নেওয়া হয়। অনেক সময় দরিদ্র রোগীর স্বজনেরা পুরো ভাড়া দিতে পারেন না, সেটিও তাঁদের মেনে নিতে হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়িক লভ্যাংশের বিষয়ও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুল ইসলাম সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকার বিষয়টি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

শজিমেকে রোগীর মৃত্যু নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক-স্বজনদের সংঘর্ষ, আহত ১২

তিনি জানান, সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন চালক না আসা পর্যন্ত খণ্ডকালীন চালক দিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা যায় কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা চলছে। দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে ওঠার আশাবাদও জানান তিনি।

নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, ধামইরহাটসহ জেলার আরও কয়েকটি উপজেলা সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে চালকের শূন্যতা রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী চালক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে কবে নাগাদ চালক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি জানাননি।

ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি চালু না থাকায় প্রায় দুই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রোগী স্থানান্তর নিয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিশেষ করে জরুরি ও জটিল রোগীদের অন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সের বাড়তি ভাড়া নিয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যরা।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক সংকট দ্রুত সমাধান করে সেবাটি পুনরায় চালু করা হোক। এতে জরুরি প্রয়োজনে রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে স্বজনদের ভোগান্তি ও বাড়তি খরচ দুটোই কমবে।