নওগাঁয় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

নওগাঁয় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, ১৮ মামলায় জরিমানা ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁয় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঠেকাতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুতদারি বন্ধে জেলার ১১টি উপজেলায় নিয়মিত এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের প্রসিকিউশনে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন এসব অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে জরিমানার পাশাপাশি মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে সার সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সারের অনিয়মের সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে জেলার যেকোনো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

নওগাঁয় সার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট অভিযান

নওগাঁয় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, জরিমানা ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা

ধান চাষে প্রসিদ্ধ রাণীনগর উপজেলায়ও সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। গত আগস্ট মাসজুড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সার দোকান ও গুদামে একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

গত ১১ আগস্ট আবাদপুকুর এলাকার মেসার্স আলম ট্রেডার্সকে ৬ হাজার টাকা, মেসার্স রাকিব ট্রেডার্সকে ৮ হাজার টাকা এবং মেসার্স মুন্না ট্রেডার্সকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

১৮ আগস্ট আবাদপুকুর এলাকায় মেসার্স শহিদুল ইসলামকে ১২ হাজার টাকা এবং একডালা এলাকার মেসার্স সুধীর ট্রেডার্সকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

২১ আগস্ট রাণীনগর বাজার এলাকায় মেসার্স শাহী ট্রেডার্সকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ২৪ আগস্ট আবাদপুকুর এলাকায় মেসার্স ফকির ট্রেডার্সকে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, উপজেলাজুড়ে সার নিয়ে অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর হোসেন জানান, চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

আত্রাইয়ে শিক্ষকের মারধরে নাক ফাঁটলো চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর

কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে অগ্রিম বরাদ্দের সার খোলা বাজারে বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকদের জমির পরিমাণ ও ফসলের প্রয়োজন বিবেচনা করে সার বরাদ্দের জন্য যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট চলমান থাকায় সার নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ নেই বলে তিনি আশা করছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জেলার যেকোনো এলাকায় সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি বা অবৈধ মজুতের তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় বিনির্দেশ বহির্ভূতভাবে সার গুদামজাতকরণ, সংরক্ষণ, বিক্রয়, বিপণন, পরিবহন ও বিতরণ এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রয়সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সারসংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৮টি মামলায় মোট ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

এর মধ্যে আত্রাই উপজেলায় ৬টি, রাণীনগরে ৬টি, মহাদেবপুরে ১টি, মান্দায় ২টি এবং বদলগাছিতে ৩টি মামলা করা হয়েছে।

এদিকে গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মহাদেবপুর উপজেলার চান্দাশ ইউনিয়নের বাগডোব এলাকায় এক খুচরা সার বিক্রেতার বিরুদ্ধে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ওই ব্যবসায়ীর দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার আইনে তাকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

পাশাপাশি দোকানে থাকা অবশিষ্ট সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট টিম কুঞ্জবনে অবস্থিত একটি ডিলারের দোকান পরিদর্শন করে কৃষকদের কাছে সঠিক মূল্যে ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় সার বিক্রির বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়।

জেলা প্রশাসক জানান, চলতি আমন মৌসুমজুড়ে এবং কৃষিপ্রধান জেলা হিসেবে সারা বছর নওগাঁয় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারি প্রতিরোধের পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া নিশ্চিত করতে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।