ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে হাফিজার শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি হাফিজার শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মধুখালীতে ধর্ষণ মামলায় হাফিজার শেখের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পুত্রবধূকে ধর্ষণ মামলায় হাফিজার শেখের যাবজ্জীবন, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই হাফিজার শেখ তাঁর পুত্রবধূকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট কৌশলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এরপর বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। পরে জোর করে তাঁর গর্ভপাত ঘটানো হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি পরে ভুক্তভোগী তাঁর স্বামী ও আত্মীয়-স্বজনদের জানান। তবে অভিযোগের পর তারা কোনো বিচার না করে বিভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগী তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হন। পরে তিনি আইনের আশ্রয় নেন এবং ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

আরও পড়ুন

নওগাঁয় কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন

মামলাটি তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতে গড়ায়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর বৃহস্পতিবার আদালত হাফিজার শেখকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

এই রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের রায়ের পর মামলাটির বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ থেকে শুরু করে ধর্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা মামলার অভিযোগের অংশ ছিল। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি থানায় মামলা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামির উপস্থিতির বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় আনা অভিযোগগুলো আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর ভিত্তিতেই বিচারক হাফিজার শেখকে দণ্ড দিয়েছেন।

ফরিদপুরের মধুখালীর এ মামলায় আদালতের রায়ের ফলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হাফিজার শেখের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ার রায় ঘোষণা হলো।